বমি বমি ভাব হলে করনীয় কি
বমি বমি ভাবের সম্মুখীন সহ বমি হওয়ার সমস্যায়, আমরা হয়তো কম বেশি সকলেই পড়েছি। সাধারণত বমি বমি ভাব হওয়ার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কিছু সাধারন কারণ যেমন, পাকস্থলীর এসিড রিফ্লাক্স, পেটে আলসার, কোন গন্ধের প্রতি সংবেদনশীলতা ইত্যাদির কারণে বমি বমি ভাবের দেখা মিলতে পারে। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে গুরুতর কোন স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হিসেবে ও দেখা দিতে পারে এমন সমস্যা।
বমি বমি ভাবের সমস্যা, আমাদের জন্য দৈনন্দিন জীবন যাত্রায় বেশ ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। চলুন তাহলে আজকের আর্টিকেলটিতে, বমি বমি ভাব হলে করণীয় কি? সহ এর কারণ ও লক্ষণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
পোস্ট সূচিপত্রঃ বমি বমি ভাব হলে করনীয় কি
- বমি বমি ভাব হওয়ার পেছনে যে সকল কারণ দায়ী থাকতে পারে
- বমি বমি ভাব হলে করণীয় কি
- আদা চা কিংবা আদার কুচি চিবিয়ে খাওয়া উপকারী হতে পারেঃ
- লেবু খাওয়া এ সময় উপকারী হতে পারেঃ
- অল্প অল্প করে পানি পান সহ সময় করে বিশ্রাম নিনঃ
- পুদিনা পাতা ও তেল সহ কিছু ভেষজ মসলার ব্যবহারঃ
- জীবনযাত্রায় যে সকল পরিবর্তন জরুরিঃ
- বমি বমি ভাবের সমস্যার খাবারের ক্ষেত্রে সতর্কতা
- উপসংহার। বমি বমি ভাব হলে করণীয় কি
বমি বমি ভাব হওয়ার পেছনে যে সকল কারণ দায়ী থাকতে পারে
আজকের এ আর্টিকেলটি, বমি বমি ভাব হলে করণীয় কি সে সম্পর্কে। তবে শুরুতেই আমাদের এমন সমস্যার পেছনে যে সকল কারন, দায়ী থাকতে পারে সেগুলো জেনে নেওয়ার চেস্টা করব। কেননা আপনার যদি বমি বমি ভাবের দেখা মেলে, সেক্ষেত্রে এর সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি। বমি বমি ভাব হওয়ার পিছনে, কিছু সাধারণ কারণ সহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ থাকতে পারে। চলুন তাহলে, বমি বমি ভাব হওয়ার পেছনে যে সকল কারণ দায়ী সেগুলো জানার চেষ্টা করি।
- সাধারণভাবে বমি বমি ভাবের সমস্যার ক্ষেত্রে, গ্যাস্ট্রিক, অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস সহ বদ হজম দায়ী থাকতে পারে। আপনি যদি সময়ের খাবার সময় মত না খান, অবেলায় খাবার খেলেও, এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে।
- পেটে কোন ধরনের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ সহ, ফুড পয়জনিং হলে বমি বমি ভাবের দেখা মেলা খুবই সাধারণ ব্যাপার। বিশেষ করে পেটের সংক্রমণ ডায়রিয়া হলে, বমি বমি ভাব সহ বমি হওয়ার মতো সমস্যার প্রবণতায় পড়তে হতে পারে।
- মাথা ঘোরা অর্থাৎ মাইগ্রেনের সমস্যা বা ভার্টিগোর কবলে পড়লে এমন সমস্যার দেখা মিলতে পারে। অনেকের তো কোন, যানবাহনে ভ্রমণের ফলেও বমি বমি ভাব সহ বমি হওয়ার মতো সমস্যার কবলে পড়ে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা উদ্বেগ অনেক সময় অনেকের জন্য বমি বমি ভাবের সৃষ্টি করতে পারে।
- মদ্যপান সহ অ্যালকোহল জাতীয় দ্রব্য সেবনের ফলে, দেখা দিতে পারে, বমি বমি ভাব সহ বমি হওয়ার সমস্যা। কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রক্রিয়া যেমন, ব্যথা নাশক, এন্টিবায়োটিক সহ আয়রন ট্যাবলেটের ফলে ও বমি বমি ভাবের দেখা মিলতে পারে।
- গর্ভবতী মায়েদের গর্ভাবস্থায়, বমি বমি ভাব সহ বমি হওয়ার সমস্যা খুবই কমন ব্যাপার। এমন সমস্যায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মায়েরা, সকাল বেলাতে অনুভব করে। তাছাড়া গর্ভাবস্থায় হরমোন পরিবর্তনের সময় মায়েদের, বমি বমি ভাব দেখা দিতে পারে।
- অতিরিক্ত খাবার খাওয়া, শরীরে পানি শূন্যতা, ঘুমের অভাব সহ নির্দিষ্ট কোন গন্ধের প্রতি, সংবেদনশীলতার কারণেও মিলতে পারে এমন সমস্যার দেখা। রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যাওয়া সহ ভিটামিন বি ১২, ভিটামিন বি ৬ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দিলে, বমি বমি ভাবের দেখা মেলাও অস্বাভাবিক কিছু না।
- গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ যেমন, বুকের সমস্যা অর্থাৎ হার্ট অ্যাটাকের সময় বমি বমি ভাবের সমস্যা সহ, শরীরের ভারসাম হারানোর মতো অনুভূতি আসতে পারে। লিভার বা কিডনির কোন সমস্যার ফলেও বমি বমি ভাবের দেখা মিলতে পারে।
- আমাদের মধ্যে কারো ব্রেনে কোন ইনফেকশন বা টিউমারের সমস্যা দেখা দিলে, বমি ভাবের অনুভূতি আসতে পারে। আপনার শরীরে এমন সমস্যা দেখা দিলে তা ছোট হলেও, এমন সমস্যার কবলে পড়তে পারেন।
বমি বমি ভাব হলে করণীয় কি
বমি বমি ভাব হলে করণীয় কি? এই আর্টিকেলটির মূল বিষয় এটি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমাদের বমি বমি ভাবের সমস্যার, দেখা মেলে সাধারণ কারণ গুলির কারণে। এজন্য এমন সমস্যায় ঘরোয়া প্রতিকারের মাধ্যমে সমাধানে আনা সম্ভব হতে পারে। চলুন তাহলে, বমি বমি ভাব, সাধারণ কিংবা গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে দেখা দিলে করনীয় কি সেগুলি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।
আদা চা কিংবা আদার কুচি চিবিয়ে খাওয়া উপকারী হতে পারেঃ
চিকিৎসকদের মতে, আদা চা কিংবা আদা কুচি চিবিয়ে খেলে, এটি বমি বিরোধী ওষুধের মতই কার্যকর। আপনার যদি বমি বমি ভাবের সাধারণ সমস্যা গ্যাস্ট্রিক সহ হজম সংক্রান্ত সমস্যার ফলে, দেখা দেয়। সে ক্ষেত্রে এমন উপকরণ খুবই উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। আদা পেটের হজম প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় কাজ করে একই সঙ্গে পাকস্থলীর পেশিকে আরাম দেয়।
বমি বমি ভাবের সমস্যায় আদা চা কিংবা আদার কুচি ব্যবহার, হাজার বছর আগে থেকে হয়ে আসছে। এমন সমস্যায় উপকার মিলাতে, আদা থেতো করে গরম পানিতে ফুটিয়ে চা হিসেবে খাওয়া, কুচি করে চিবিয়ে খাওয়া সহ আদা রস করে খেলেও ভালো ফলাফল পাওয়া যায়। গর্ভবতী কিংবা কোন স্বাস্থ্য সমস্যা থাকলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাওয়া উচিত।
লেবু খাওয়া এ সময় উপকারী হতে পারেঃ
বমি বমি ভাবের সমস্যা সমাধানের জন্য লেবু খাওয়ার ফলে, এটি খুবই কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। কেননা লেবুতে থাকা প্রাকৃতিক এসিড, শরীরে বাই কার্বোনেটেড রূপান্তরিত হয় পেটের অতিরিক্ত এসিডিটি কমায়, যার ফলে এমন সমস্যায় আরাম মেলে। আপনি যদি এক টুকরো লেবু নিয়ে সতেজ গন্ধ উপলব্ধি করেন, এটিও বমি বমি ভাব কমাতে বেশ উপকারী।
বিশেষ করে গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের বমি বমি ভাবের, অনুভূতি কমাতে বেশ কাজ করে লেবুর সতেজ গন্ধ। তাছাড়া লেবু মুখের লালার উৎপাদন বাড়ায়। লেবু খাওয়ার ক্ষেত্রে আপনি, হালকা উষ্ণ গরম পানির সঙ্গে লেবুর রস মিশিয়ে এবং এক টুকরা লেবু চিবানো সহ একটি কাটা লেবুর গন্ধ নিলে ও, বেশ উপকার পেতে পারেন।
অল্প অল্প করে পানি পান সহ সময় করে বিশ্রাম নিনঃ
আপনার যদি হঠাৎ করে বমি বমি ভাবের সমস্যা দেখা দেয় সে ক্ষেত্রে, সময় করে একটু বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। শারীরিক যে কোন অসুস্থতার লক্ষণ অনুভব হলে, এ সময় বিশ্রাম নেওয়ার ফলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অনেক সময় অনেকের এমন সমস্যার সাথে, মাথা ব্যথা সহ মাথা ঘোরার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এমন সমস্যার মোকাবেলা করতে হলে বিশ্রাম ছাড়া কোন গতি নেই।
তাছাড়া বমি বমি ভাব সহ আপনার যদি, বমি হওয়ার সমস্যার দেখা মেলে। এজন্য অল্প অল্প করে পানি পান করুন যা খুবই জরুরী এ সময়। কেননা বমি বমি ভাব সহ বমি হওয়ার সমস্যায় পড়লে, শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে। এজন্য অল্প অল্প করে পরিমাণ মতো পানি পান করলে এটি শরীরকে হাইড্রেট রাখে একই সঙ্গে পেটের অস্বস্তি কমায়।
পুদিনা পাতা ও তেল সহ কিছু ভেষজ মসলার ব্যবহারঃ
আমাদের মধ্যে কারো যদি বমি বমি ভাবের, সমস্যার দেখা মেলে সেক্ষেত্রে, পুদিনা পাতা ও পুদিনা পাতার তেল সহ কিছু ভেষজ মসলার ব্যাবহার উপকারি প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য পুদিনা পাতা গরম পানির সঙ্গে ফুটিয়ে চা করে খাওয়া যায় একই সঙ্গে কয়েক ফোটা পুদিনা পাতা তেল হাতে নিয়ে, এর গন্ধ শুকলেও উপকার মিলতে পারে।
আরো পড়ুনঃ ঠান্ডা লাগলে ,উপকারি খাবার গুল সম্পর্কে জানুন।
অন্যদিকে কিছু ভেষজ মসলা যেমন, মৌরি গুঁড়া, দারুচিনি গুঁড়া ও ভাজা জিরার গুড়া বমি বমি ভাব দূর করতে কাজ করে। আপনি চাইলে এই সকল মসলা দিয়ে,চা করে খেলেও বেশ উপকার পেতে পারেন।
জীবনযাত্রায় যে সকল পরিবর্তন জরুরিঃ
আপনার বা আপনার পরিবারের কারো যদি, বমি বমি ভাবের সমস্যার মোকাবেলা, প্রতিনিয়ত করতে হয় সে ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ সবচেয়ে উপযুক্ত। তবে আপনি এমন সমস্যায় ঢিলা ঢালা পাতলা পোশাক পড়ুন। ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস করুন বেশ উপকারী। শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করলেও, কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।
আপনি যদি মানসিক চাপ বা উদ্বেগের মধ্যে সময় পার করেন। সেক্ষেত্রে এমন সমস্যা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখাই উত্তম হবে। কেননা মানসিক চাপ বা উদ্বেগ থেকে বমি বমি ভাবের সমস্যা, দেখা দিতে পারে এজন্য শান্তি অত্যন্ত জরুরী।
বমি বমি ভাবের সমস্যার খাবারের ক্ষেত্রে সতর্কতা
আপনার বমি বমি ভাবের সমস্যা যদি পুষ্টির ঘাটতির কারণে দেখা দিয়ে থাকে। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যেমন, ভিটামিন বি ১২ এবং ভিটামিন বি৬ সমৃদ্ধ খাবারের দিকে নজর দিতে পারেন। এমন সমস্যায় আপনি অল্প অল্প করে খাবার খান, খুব বেশি খাওয়া কোনমতে চলবে না। এমন সমস্যায় ভাতে মার, সেদ্ব ভাত, কলা, টোস্ট সহ যে কোন স্যুপ খাওয়া ও উপকারি।
তেল মসলাযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া সহ ফাস্ট ফুড এড়িয়ে চলা উত্তম। যে কোন খাবার খুব গরম বা খুব ঠান্ডা খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। ধূমপান, অ্যালকোহল সহ ক্যাফেইন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার, অভ্যাস থাকলে তা ত্যাগ করুন। খাবার খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, শুয়ে পড়া থেকে বিরত থাকুন।
উপসংহার। বমি বমি ভাব হলে করণীয় কি
আজকের আর্টিকেলটিতে বমি বমি ভাব হলে করণীয় কি? সহ যে সকল কারণে এমন সমস্যা দেখা মিলতে পারে, তা আলোচনা করা হয়েছে। বমি বমি ভাবের সমস্যা রোধ করার জন্য আপনি, ডমপেরিডন ও অনড্যানসেট্রন ওষুধ সেবন করতে পারেন, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী। তাছাড়া আপনার যদি, বমি বমি ভাবের সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে সমাধানে না আসে। সে ক্ষেত্রে মাথায় রাখবেন, শারীরিক গুরুতর সমস্যার লক্ষনেও এমনটা হতে পারে।
এজন্য অনতিবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। তাছাড়া দীর্ঘস্থায় বমি বমি ভাবের সমস্যা, শারীরিক দুর্বলতা সহ বেশ কিছু স্বাস্থ্য সমস্যার সৃষ্টির করতে পারে। এজন্য এমন সমস্যা খুব সাধারণ হলেও, সতর্কতা মেনে চলা, এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত হবে।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url