নাকের সর্দি কমানোর উপায়
শীতের মৌসুম তো চলে আসলো, ক্রমাগত শীতের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলছে। এ সময় ঠান্ডা জনিত কারণে অনেকের মধ্যে দেখা দেয়, সর্দির মতো বিরক্তিকর সমস্যা। অনেক সময় সর্দিতে, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং নাক থেকে ক্রমাগত পানি পড়ার মত প্রমাণতায় পড়েন অনেকে। তবে এই ঠান্ডা জনিত সমস্যা সহ, বেস কিছু সমস্যায় সর্দি হতে পারে । এজন্য ঘরোয়া কিছু পদ্ধতি অবলম্বন করলে, সর্দির সমস্যায় সমাধান মিলানো সম্ভব।
আজকের আর্টিকেলটিতে আপনাদের সাথে আলোচনা করার চেষ্টা করব,নাকের সর্দি কমানোর উপায় সম্পর্কে। আপনি যদি বর্তমানে সর্দির সমস্যায় পড়ে থাকেন, তাহলে আজকের আর্টিকেলটি আপনার জন্য হতে যাচ্ছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পোস্ট সূচিপত্রঃ নাকের সর্দি কমানোর উপায়
নাকে সর্দি হওয়ার যে সকল কারন রয়েছে
শরীরের ঠান্ডা জনিত কারণেই হোক কিংবা যে কোন কারনে, সর্দির দেখা মিললে অবশ্যই এর সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরী। সর্দি বিভিন্ন কারণে হতে পারে, সব থেকে অন্যতম হলো ভাইরাস সংক্রমণের কারণে। এ সময় সর্দির পাশাপাশি, মাথাব্যথা, গলা ব্যথা এবং হাচি হওয়ার মতন প্রবণতা ও দেখা দিতে পারে। কথা না বাড়িয়ে চলুন তাহলে সর্দি হওয়ার যে সকল কারণ রয়েছে সেগুলো জেনে নি।
- ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সর্দি হওয়া সব থেকে সাধারণ এবং অন্যতম কারণ। শরীরে কোন প্রকার ঠান্ডা লাগলে, বা অতিরিক্ত ঘেমে গেলেও এই ধরনের সংক্রমনে দেখা দিতে পারে। ভাইরাস সংক্রমণের কারণে সর্দি হলে, নাকের ভিতরে শ্লেষ্মার তৈরি হতে পারে যা থেকে নাক বন্ধ হওয়ার প্রবোনতাও দেখা দিতে পারে।
- কিছু লোকের মধ্যে এলার্জির সমস্যার কারণেও, সর্দির প্রবণতা দেখা দেয়। ধুলোবালি কিংবা পোষা প্রাণীর লোমের সংস্পর্শে আসলেই দেখা দেয় এই ধরনের এলার্জি সমস্যা। যা থেকে তৈরি হতে পারে দীর্ঘস্থায়ী সর্দি। এই এলার্জি গত কারণে, নাকের ভিতর হিস্টামিন নামক এক ধরনের রাসায়নিক নির্গত হয়, এই রাসায়নিকের কারণেই নাকের ব্যাথার প্রদাহ এবং সর্দির দেখা মেলে।
- অন্যদিকে সাইনাস সংক্রমনের, নাকের ভেতর ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাক জনিত কারণেও অনেক সময় সর্দি সমস্যা হতে পারে। নাকের সর্দি হওয়ার এই সমস্যার ফলে সর্দি হলুদ বা সবুজ রঙেরও হতে পারে। আমাদের সকলেরই, এই সকল সর্দির ক্ষেত্রে, প্রাথমিকভাবে সর্তকতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরী।
- পরিবেশের আবহাওয়া, পরিবর্তনের ফলে সর্দি হওয়া খুবই সাধারণ ব্যাপার। এখন প্রায় শীত চলে এসেছে, এ সময় নিজেকে পর্যাপ্ত উষ্ণ রাখা শরীরে ঠান্ডা লাগানো থেকে বিরত থাকার দীর্ঘ চেষ্টা করবেন। নাকের ভিতর কোন প্রকার বাধার সৃষ্টি যেমন, পলিপ বা ভেরিয়েটেড সেপ্টামের ফলেও সর্দি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- অন্যদিকে অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অতিরিক্ত মসলাদার খাবার খেলেও সর্দির সমস্যা দেখা দেয়। তবে এটা সাময়িক সময়ের জন্য, তবে সতর্কতা মেনে অতিরিক্ত টেনশন ও মসলাদার খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। নাকে সর্দি হলে, প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া ব্যবস্থা নিলেই সারিয়া তোলা সম্ভব।
নাকের সর্দি কমানোর উপায়
আর্টিকেলটির মূল বিষয়, নাকের সর্দি কমানোর উপায় সম্পর্কে। নাকের সর্দি হওয়ার বেশ কিছু কারণ সম্পর্কের ইতিমধ্যে বলা হয়েছে। নাকের ভেতর সর্দি দেখা দিলে, নাক দিয়ে পানি পড়া, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, ক্লান্তি, অতিরিক্ত হাচি হওয়া সহ, নাক দিয়ে ফোঁটায় ফোটায় শ্লেষ্মাও, বের হতে পারে। সর্দির এই সকল সমস্যা খুবই বিরক্তিকর, এজন্য অবশ্যই এর প্রতিকার জরুরি। চলুন তাহলে জানা যাক, আর্টিকেলটির মূল বিষয় নাকের সর্দি কমানোর উপায় সম্পর্কে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিনঃ
আপনার নাকে সর্দি সমস্যা দেখা দিলে, পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া অত্যন্ত জরুরী ও প্রয়োজনীয়। কেননা সর্দি হোক কিংবা যে কোন সমস্যার ক্ষেত্রে, সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি যোগানোর জন্য বিশ্রাম অত্যন্ত জরুরি। আপনি যদি সর্দির সমস্যায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম করেন, তাহলে এটি সাইনোসাইটিসের হাত থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে। এজন্য আপনার যদি সর্দি হয় তাহলে অবশ্যই, শারীরিক পরিশ্রম কমিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশ্রাম করে নিবেন।
পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার খানঃ
নাকের সর্দি জনিত সমস্যায়, পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল খাবার গ্রহণ করাও জরুরি। কেননা সর্দির সমস্যা শরীলে দেখা দিলে, ফলু বা হালকা জ্বর শরীরে দেখা দিতে পারে, সেই সঙ্গে পানি শূন্যতার অভাব দেখা দেওয়া সাধারণ ব্যাপার। এজন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে, তরল যেমন, ফলের রস, গরম পানি ও যেকোনো গরম স্যুপ চাইলে আপনি খেতে পারেন।
এগুলো আপনার শরীরের পানিশূন্যতার অভাব পূরণ করবে, এবং নাকের ভেতরে জমে থাকা শ্লেষ্মা পাতলা করে বের করে দিতে সাহায্য করবে। তাছাড়া নাকের শ্লেষ্মা পাতলা থাকলে তা পরিষ্কার করার সহজ হয় এবং, সাইনাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুকি অনেকটাই কমে যায়।
গরম পানির ভাপ নেওয়া যেতে পারেঃ
আপনি যদি সর্দির কবলে পড়েন, তাহলে একটা পাত্রে কিছু গরম পানি দিন, এরপরে মুখে একটা তোয়ালে পেঁচিয়ে, গরম পানির উপরে মুখ নিয়ে ভাপ নিন। এতে আপনার নাকের ভিতর জমে থাকা শ্লেষ্মা পাতলা করে দিবে, যার ফলে নাক পরিষ্কার ও শ্বাস-প্রশ্বাসের সুবিধা হবে।
আরো পড়ুনঃ তলপেটে নাভির নিচে ব্যাথা কমানোর উপায়।
এছাড়াও আপনার যদি সর্দির পাশাপাশি মাথায় ব্যাথার সমস্যা থাকে, তাও গরম ভাবের কারণে অনেকটাই সস্তি পেতে পারেন। এছাড়াও গরম পানির ভাব নিলে নাকের ভেতরের রক্তনালী গুলোকে শিথিল করে এবং ফোলা ভাব দূর করতেও সাহায্য করে। এছাড়াও ঘুমানোর সময় অবশ্যই মাথা উঁচু করে ঘুমাবেন, এত করেও আপনি শ্বাস-প্রশ্বাসের সুবিধা পাবেন।
মধু খাওয়া উপকারীঃ
নাকের সর্দি হলে মধু খাওয়া সবচেয়ে উপকারী। কেননা মধুতে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিভাইরাল বৈশিষ্ট্য রয়েছে। মধুতে থাকা এই উপাদান, সর্দি জনিত সমস্যার সংক্রমনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ভূমিকা রাখে। তাছাড়া মধু আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে তা সকলেই হয়তো জানি। যদি আপনার সর্দির পাশাপাশি কাশির সমস্যাও থাকে, তাহলে ও মধু, কফ সাপ্রেসেন্ট বা কাশি নিরাময় করতেও কাজ করে।
মধু সেবনের জন্য আপনি, গরম পানি, গরম চা এবং আধা ও লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে খেতে পারেন, আদা, মধু এবং লেবু তিনটি উপাদানই, সর্দি কমাতে সহায়ক। আপনি চাইলে মধু সরাসরিও খেতে পারেন, এজন্য সকালে কিংবা ঘুমানোর আগে এক চামচ মধুই যথেষ্ট।
নাকের সর্দির সমস্যার রসুন খাওয়াও উপকারীঃ
আপনার যদি নাকের সর্দি সমস্যা হয় তাহলে, চাইলে প্রতিদিন সকালে এক কোয়া রসুন চিবিয়েও খেতে পারেন। কেননা রসুনে অ্যালিসিন নামক এক ধরনের সক্রিয় যৌগ রয়েছে, যা ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করে, এবং শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি জোগায়। অন্যদিকে রসুনে ভিটামিন সি, ভিটামিন বি৬ এবং ম্যাঙ্গানিজের মতো পুষ্টি উপাদানে ভরপুর।
কাঁচা রসুন যদি আপনার চিবিয়ে খেতে অসুবিধা হয় তাহলে এক কোয়া রসুন, কুচি কুচি করে চায়ের সাথে মিশেও খেতে পারেন। সর্দির সমস্যার রসুন খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা ও রয়েছে, শরীরে যদি অন্য কোন শারীরিক সমস্যা থাকে, তাহলে রসুন খাওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গোলমরিচ খাওয়া উপকারী হতে পারেঃ
নাকের সর্দির সমস্যা দেখা দিলে, গোল মরিচ খাওয়া অত্যন্ত উপকারী। কেননা অনেক আগে থেকেই, সর্দি কাশির জন্য গোলমরিচের ব্যবহার ঘরোয়া ভাবে খুবই জনপ্রিয়। সর্দির সমস্যার কারণে অনেক সময় শ্লেষ্মা জমে শক্ত হয়ে যায়। গোলমরিচে থাকা পিপারিন নামক উপাদান নাকের ভেতরের জমে থাকা শ্লাষ্মা পাতলা করতে সাহায্য করে।
আরো পড়ুনঃ স্থায়ীভাবে মুখের দর্গন্ধ দূর করার উপায় সম্পর্কে জানুন।
এছাড়াও আপনার সর্দি-যদি ঠান্ডা জনিত কারণে হয়, তাহলে গোলমরিচ ব্যবহারের ফলে এটি আপনার শরীরকে গরম বা উষ্ণতা প্রদান করবে। যা ঠান্ডা মোকাবেলার ক্ষেত্রে আপনার জন্য খুবই আরামদায়ক । অন্যদিকে গোলমরিচে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, ও সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ভূমিকা রাখে।
সর্দিতে পুদিনা পাতাও উপকারীঃ
সর্দিতে পুদিনা পাতা উপকারী এজন্য চাইলে আপনি গরম চায়ের ভেতরে কিছু পুদিনা পাতা ফুটিয়ে, চা তৈরি করে খেতে পারে। সর্দির কারণে আপনার যদি শ্বাস নিতে অসুবিধা হয়, হলে পুদিনা পাতায় থাকা মেনথল উপাদান একটি শক্তিশালী ডিকনজেস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করে। পুদিনা পাতার তীব্র ঘ্রাণ, বন্ধ নাক খুলতে সাহায্য করবে এবং অস্বস্তি কমিয়ে আরাম দিতে পারে।
অন্যদিকে পুদিনা পাতাতে এন্টি ব্যাকটেরিয়াল গুনাগ রয়েছে, অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল গুনাগুন, শরীরে সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে ভূমিকা পালন করে তা উপরে বলা হয়েছে। যদি চান পুদিনা পাতা ফুটিয়ে সেই পানি দিয়েও গার্গল করতে পারেন। নাকের সর্দি সমস্যা পুদিনা পাতা খুবই নিরাপদ এবং প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসেবে কাজ করে।
উপসংহার। নাকের সর্দি কমানোর উপায়
আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যেই নাকের সর্দি কমানোর উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। নাকের সর্দি হলে করণীয় গুলির যেকোনো কিছু আপনি মেনে চললে, অল্প সময়ের মধ্যে কমে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কেননা সাধারণত সংক্রমণের কারণে যে সকল শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়, এগুলো প্রাথমিকভাবে ঘরোয়া চিকিৎসার মাধ্যমে সমাধানে আনা সম্ভব। তবে অনেক ক্ষেত্রেও, নাকের সর্দির সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে।
আপনার যদি নাকের সর্দি সমস্যা ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, সর্দির সাথে নাক থেকে হলুদ, সবুজ ও রক্তসহ সর্দি পড়ে তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। নাকের সর্দি কমানোর উপায় আর্টিকেলটি এতক্ষণ মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। নাচের সর্দি কমানোর উপায় আর্টিকেলটি যদি আপনার ভালো লেগে থাকে, চাইলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।
(খোদা হাফেজ)



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url