কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই

কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই এমন খাবারের সন্ধান অনেকেই করেন। এলার্জি একটা বিরক্তিকর ত্বকের চুলকানি ও প্রদাহজনিত সমস্যা। এমন অনেকে আছেন যাদের বিভিন্ন খাবারে ফুড এলার্জির মোকাবেলা করতে হয়।

এলার্জি

তবে খাদ্য তালিকার মধ্যে এমন কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো খেলে ফুড এলার্জির প্রতিক্রিয়ায় স্বস্তি মেলাতে পারেন। চলুন তাহলে আজকের এই পর্বে কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই সঙ্গে এলার্জির প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে এমন খাবার সম্পর্কে জানা যাক। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই

কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই 

কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই আজকের এই ব্লগটির মূল বিষয় এটি। এলার্জি কয়েক ধরনের হতে পারে তবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা বুঝে বিভিন্ন খাবারে এলার্জির প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত খাবার গ্রহণের পর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। একই সঙ্গে অ্যান্টি বডিগুলো হিস্টামিন সহ অন্যান্য কেমিক্যাল রক্তে ছড়িয়ে দেয় যার ফলে শরীরে এলার্জি প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আপনার এমন সমস্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় যে সকল খাবার এলার্জির প্রতিক্রিয়া তৈরি করে না বরং নিয়ন্ত্রণের কাজ করে চলুন শুরুতে সেগুলো জানার চেষ্টা করি। 

ভিটামিন সি জাতীয় খাবার 

শারীরিক সুস্থতা বজায় রেখে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। তবে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার এলার্জি প্রতিরোধে খুবই কার্যকর। ভিটামিন সি জাতীয় খাবারের মধ্যে কিছু খাবার ব্যক্তিবেদে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। কেননা এ সকল খাবারের নিজস্ব প্রোটিন বা অ্যাসিডিক বৈশিষ্ট্যের কারণে ফুড এলার্জি তৈরি করতে পারে।

আপনি এলার্জির মতো বিরক্তিকর সমস্যা প্রতিরোধে পেঁপে, পেয়ারা, ব্রকলি, ক্যাপসিকাম, বাঁধাকপি, লেবু কমলালেবু, বাতাবী লেবু, আমলকি ইত্যাদি খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। এই সকল ভিটামিন সি যুক্ত খাবারকে এলার্জি নাশক বলা হয় একই সঙ্গে এলার্জি হওয়ার ঝুঁকি কমাতে পারে। 

ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার  

এলার্জি নেই এমন খাদ্যের তালিকায় ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ কিছু খাবার রাখতে পারেন। বিশেষ করে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ খাবার এন্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি বৈশিষ্ট্য হওয়ায় প্রদাহ বিরোধী হিসেবে কাজ করে। এজন্য আপনি চর্বি যুক্ত মাছ যেমন স্যামন, ম্যাকেরেল, সার্ডিন, তিসি বিজ, চিয়া বীজ, ইত্যাদি খেতে পারেন খুবই উপকারী। 

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে ও বেশ কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো এলার্জি প্রতিরোধ করে ঝুঁকি কমাতে কার্যকর। তবে ব্যক্তিবেদে কিছু প্রটিন সমৃদ্ব নির্দিষ্ট খাবারে কারো কারো ক্ষেত্রে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। এলার্জি প্রতিরোধে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে মটরশুটি, ছোলা ডাল, মসুর ডাল ইত্যাদি নিরাপদ হতে পারে। বিশেষ করে ডাল জাতীয় খাবার শরীরে এলার্জি সৃষ্টি করে না বরং প্রতিরোধে সাহায্য করে। 

প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার 

আমরা সকলেই জানি প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার হজম শক্তি উন্নত করতে খুবই কার্যকর। তবে আপনি হয়তো নাও জানতে পারেন প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার এলার্জির ঝুকি কমিয়ে শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। আপনার শরীরে একজিমা বা ফুট এলার্জির উপসর্গ থাকলে এই উপসর্গ কমাতে ভূমিকা রাখে।

প্রোবায়োটিক খাবারের মধ্যে সবথেকে উপযুক্ত হলো দই। দই যেহেতু দুধের তৈরি কারো কারো ক্ষেত্রে এমন খাবারে এলার্জির প্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে। মূলত প্রোবায়োটি এলার্জি প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ সহ ঝুকি কমাতে কার্যকর। খেয়াল রাখবেন দই উপকারী হলেও অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। 

চালের তৈরি খাবার 

আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ভাত প্রধান খাদ্য হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এলার্জির সমস্যা এড়াতে চালের তৈরি ভাত সব মানুষের জন্য নিরাপদ হতে পারে। বিশেষ করে চালকে হাইপো এলার্জেনিক খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। শরীরে এলার্জি সমস্যা এরাতে চালের তৈরি খিচুড়ি, পোলাও সহ চাল দিয়ে তৈরি রুটি খেতে পারেন।

এগুলা সহজে হজম হয় যা ঝুকি ছড়াই আপনি খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন। তবে আপনি যদি চালের তৈরি খাবারের সঙ্গে নির্দিষ্ট এলার্জেন উপাদান যোগ করেন, সেক্ষেত্রে এলার্জির প্রতিক্রিয়া বেড়ে যেতে পারে।

কিছু শাকসবজি 

এলার্জি নেই এমন খাবারের তালিকায় কিছু শাকসবজিকে জায়গা দিতে পারেন। দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় শাক সবজি আমাদের সকলেরই নিত্য দিনের সঙ্গী। নির্দিষ্ট অনেক শাকসবজিতে কারো কারো এলার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তবে এলার্জি মুক্ত শাকসবজি হিসেবে, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, পটল, পেঁপে, বরবটি, পালং শাক, লাল শাক, ডাটা শাক এবং কলমি শাক খেতে পারেন। এই সকল শাকসবজিতে থাকা ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এলার্জির প্রদাহ বিরোধী ও উপসর্গ কমাতে কার্যকর।  

আরো পড়ুনঃ ঘন ঘন প্রস্রাব হলে কি খাওয়া উচিত জানুন এখানে।

মুরগির মাংস এবং খাসির মাংস 

কম এলার্জি যুক্ত খাবারের তালিকায় মুরগির মাংস এবং খাসির মাংস খেতে পারেন। সাধারণত মুরগির মাংস এবং খাসির মাংস কম এলার্জেনিক। আপনার শরীরে একজিমা বা ত্বকের এলার্জি থাকলে বেশ কার্যকর এমন খাবার। কেননা মুরগির মাংস এবং খাসির মাংস প্রোটিন এবং লৌহ সমৃদ্ধ। মুরগি এবং খাসির মাংসে এলার্জি কম সৃষ্টি করলে ও কারো কারো ক্ষেত্রে তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। এজন্য অবশ্যই প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং অতিরিক্ত ঝাল, তেল, ও মশলা দিয়ে রান্না করা মাংসে এলার্জির তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত মাংস খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। 

মধু এবং আদা 

এলার্জি নেই এমন তালিকার শীর্ষে রাখতে পারেন মধু এবং আদাকে। মধু এবং আদাতে বিশেষ করে এলার্জি তেমন একটা নেই বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রেই নিরাপদ। তবে মৌমাছি নির্দিষ্ট কোন এলার্জেন ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করলে কারো কারো প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে, এটি মূলত খুবই বিরল।

এলার্জি

অন্যদিকে আদাতে এন্টি ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এলার্জির কারণে সর্দি কাশির উপসর্গ কমাতে আদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আপনার এলার্জির ঝুঁকি কমাতে এবং প্রতিরোধে পরিমাণ মতো মধুর এবং আদা খাওয়া উপযুক্ত। আদা এবং মধু অবশ্যই অতিরিক্ত খাওয়া থেকে দূরে থাকুন। 

পেঁয়াজ এবং হলুদ 

দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকায় পেঁয়াজ এবং হলুদ সকলেরই নিত্যদিনের সঙ্গী। পেঁয়াজ এবং হলুদ বিশেষ করে শরীরে এলার্জির সৃষ্টি করে না। কেননা হলুদ এবং পেঁয়াচে থাকা কারকুমিন এবং কোয়ারসেটিন উপাদান প্রদাহ বিরোধী হিসেবে কাজ করে। যার ফলে এমন উপকরণ এলার্জির প্রদাহ কামায় সঙ্গে প্রতিরোধে সাহায্য করে।

অন্যদিকে কারো কারো ক্ষেত্রে এমন উপকরণে এলার্জির প্রতিক্রিয়া আসতে পারে তবে খুবই কম। স্বাভাবিকভাবে পেঁয়াজ এবং হলুদ আপনি নিঃসন্দেহে খেতে পারেন। শরীরের জন্য পেঁয়াজ এবং হলুদ উপকারী তবে অতিরিক্ত নয়। এবং আপনি যদি এমন খাবারে সমস্যা মনে করেন সেক্ষেত্রে এড়িয়ে চলুন।

কোন কোন খাবারে এলার্জি বেশি থাকে 

কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই এ ব্যাপারে কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এলার্জি একটি বিরক্তিকর  চর্মরোগ যা কয়েক ধরনের হতে পারে। ব্যক্তিবেদে ভিন্ন ভিন্ন খাবারে কারো কারো শরীরে এলার্জি প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। শরীরে এলার্জি থাকলে দৈনন্দিনের উপকারী খাবারের দিকে যেমন নজর প্রয়োজন। ঠিক তেমনি যে সকল খাবার অতিরিক্ত এলার্জেন সৃষ্টি করে তা এড়িয়ে চলা বেশ জরুরী। চলুন কথা না বাড়িয়ে এখন তাহলে কোন কোন খাবারে এলার্জি বেশি থাকে তা জেনে নিন। 

  • পুষ্টিগুণে ভরপুর দুধ মানব দেহের জন্য খুবই উপকারী খাদ্য উপাদান। উপকারী খাদ্য উপাদান হলেও দুধ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এলার্জির সৃষ্টির করতে পারে। বিশেষ করে গরুর দুধে ক্যাসিন ও হুই প্রোটিনের এগুলো ইমিউন সিস্টেমকে প্রতিক্রিয়া দেখালে এলার্জি হতে পারে। দুধ বা দুধ থেকে তৈরি কৃত পন্যে ত্বকে চুলকানি, ফুসকুড়ি, হাঁচি, কাশি সহ শ্বাসকষ্টের মত এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে একজিমার মত চর্মরোগ সৃষ্টিতে বেশ কার্যকর এই উপকরণ। 
  • গমের তৈরি যেকোনো খাবার থেকে কারো কারো এলার্জি প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। সাধারণত শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গমের প্রোটিনকে ক্ষতিকারক প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইমিউন সিস্টেমকে প্রতিক্রিয়া দেখালে এলার্জি হতে পারে। গমে ফুড এলার্জির লক্ষণে ত্বকে চুলকানি, শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব সহ পেটে ব্যথার লক্ষণ আসতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এমনটা শিশুদের মধ্যে দেখা যায় তবে যে কোন ব্যক্তিদের হতে পারে। 
  • দৈনন্দিনের খাদ্য তালিকার সয়া পন্য থেকে অনেকের মধ্যে এলার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সয়া পন্যের সয়াবিন, টোফু, সয়া সস, সয়া দুধ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উল্লেখিত সয়া পন্য খাওয়ার ফলে এতে থাকা প্রোটিনের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত প্রক্রিয়া ঘটে যা খুব দ্রুত এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এর ফলে ত্বকে চুলকানি, মুখ এবং ঠোঁটে ফোলাভাব সহ বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 
এলার্জি
  • আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাদ্যের তালিকায় শাক সবজি সহ ফলমূল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাদ্য তালিকার এমন কিছু ফল এবং শাকসবজি রয়েছে যেগুলো শরীরে এলার্জি প্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ফলের তালিকায় আপেল, কলা, আনারস, লিচু, আম, ডুমুর, আঙ্গুর ও স্ট্রবেরি ইত্যাদি এলার্জির প্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে। কিছু সবজি যেমন টমেটো, বেগুন, আলু, পালং শাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, পুই শাক, ডেরশ, কাঁচা পেঁয়াজ ফুড এলার্জেন সৃষ্টি করতে পারে। 
  • কোন ধরনের শাক কিংবা সবজির সঙ্গে চিংড়ি মাছ না হলে অনেকের তো খাবারের স্বাদই আসেন। তবে আপনি কি জানেন চিংড়ি মাছ শরীরে এলার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। শুধু চিংড়ি নয় ইলিশ, সার্ডিন, কাকড়া জাতীয় সামুদ্রিক মাছ অতিরিক্ত এলার্জি সৃষ্টিকারী। আপনার যদি কোন ধরনের মাছের এলার্জি থাকে সেক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরী। কেননা এমন খাবারে এলার্জি গুরুতর এবং দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তির মোকাবেলায় ফেলতে পারে। 
  • বাদাম প্রোটিনে ভরপুর যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির যোগান দিতে পারে। তবে এই বাদামগুলোর তালিকায় কিছু বাদাম যেমন চিনা বাদাম, কাজুবাদাম, আখরোট, কাঠবাদাম, পেস্তা বাদাম ইত্যাদি শরীরে এলার্জি সৃষ্টি করতে পারে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলার্জি সৃষ্টিকারী চিনা বাদাম। শরীরের জন্য দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের ফুসকুড়ি ও চুলকানি সৃষ্টি করে শ্বাসকষ্টের মত ভয়াবহ পরিস্থিতির লক্ষণ দেখা দিতে পারে। 

শরীরে এলার্জি হলে কি কি সমস্যা হয় 

কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই এবং কোনগুলি এলার্জির সমৃদ্ধ এ ব্যাপারে ব্লগটিতে বেশ তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। এলার্জি খুবই বিরক্তিকর এবং যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা এর ফলে শরীরে চুলকানি, ফুসকুড়ি, হাঁচি, কাশি সহ বেশ কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে এলার্জিতে ব্যক্তিবেদে এলার্জির ধরন অনুযায়ী সমস্যা ভিন্ন হতে পারে। চলুন ব্লকটিতে শরীরে এলার্জি হলে কি কি সমস্যা হয় সে ব্যাপারে এই পর্বে জানার চেষ্টা করি। 

আরো পড়ুনঃ কোন ভিটামিনের অভাবে মুখে ব্রন হয় জানুন।

  • আপনার শরীরে এলার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ত্বকে চুলকানি, ফুসকুড়ি দেখা দিয়ে ত্বক শুষ্ক এবং খসখসে হয়ে যাওয়ার প্রবণতা প্রাথমিক অবস্থায় দেখা দিতে পারে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে র‍্যাস বা চাকা চাকা দাগ দেখা দিতে পারে, অস্বাভাবিক কিছু নয়। এলার্জিতে  আক্রান্ত ব্যক্তির ঠোঁট এবং মুখে স্বাভাবিকের তুলনায় ফোলাভাব আসতে পারে।
  • এলার্জি হলে কি কি সমস্যা হয় এমন সমস্যার মধ্যে হাঁচি কাশিকে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। কেননা এলার্জির প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে ব্যক্তির হাচি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, সর্দিতে নাক বন্ধ হতে পারে। একই সঙ্গে গলার ভেতরে চুলকানি সহ গলায় খুশখুসে অনুভূতি মিলতে পারে। আপনি জানলে অবাক হবেন এলার্জির প্রতিক্রিয়া হাঁপানি বা শ্বাসকষ্টের মত গুরুতর সমস্যা সৃষ্টি করতে কার্যকর। 
  • এলার্জির সমস্যায় চোখেরও বেশ সমস্যার মোকাবেলা করতে হতে পারে। আপনি যদি এলার্জির সমস্যা অনুভব করেন সেক্ষেত্রে অনেক সময় চোখে তীব্র চুলকানির সমস্যা হতে পারে। চোখ সহ চোখের আশপাশ হালকা ফোলা ভাব সহ লালচে বর্ণ ধারণ করতে পারে। চোখ দিয়ে অস্বাভাবিক ভাবে ক্রমাগত পানি বের হওয়ার সমস্যা ও হতে পারে এলার্জির লক্ষণ। 
এলার্জি
  • ফুড এলার্জির গুরুতর প্রতিক্রিয়া ফলে পেটে ব্যথা এবং বমি বমি ভাব দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা সাধারণ। কেননা এ সময় পেট ফাঁপা ও গ্যাস্ট্রিক দেখা দিতে পারে।  একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তি ডায়রিয়ার প্রবণতায় পড়তে পারে। তাছাড়া এলার্জির প্রবণতা আপনার মাথা ব্যথার সমস্যা তৈরিতেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। 

উপসংহার। কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই 

এই ব্লগটিতে কোন কোন খাবারে এলার্জি নেই, কোন গুলিতে এলার্জি রয়েছে এ ব্যাপারে জেনেছেন। একই সঙ্গে শরীরে এলার্জি হলে কি কি সমস্যা হয় তাও ইতিমধ্যে জেনেছেন। এলার্জির সমস্যা একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন দুর্বিষহ করে তুলতে পারে। যা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় খাদ্যাভ্যাস সহ প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী। কেননা এলার্জির গুরুতর পর্যায়ে আপনি দির্ঘস্থায়ী ভোগান্তির শিকার হতে পারেন। 

অনেকের শরীরের জন্য এলার্জির প্রতীক্রিয়া একটি গুরুতর এবং দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হিসাবে দেখা দেয়। যা সমাধানে প্রয়োজনীয় খাদ্য তালিকার দিকে নজর দিন। যেগুলো এলার্জি প্রতিক্রিয়া বাড়ায় তা এড়িয়ে চলুন। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শে এলার্জির সাপ্লিমেন্ট সহ ব্যবহারিক লোশন বা মলম ব্যবহার করতে পারে।

                          (খোদা হাফেজ)

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url