বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

নতুন পাসপোর্ট করার কথা ভাবছেন তাহলে বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নেওয়া জরুরি। অনেকে দেশের বাহিরে ঘুরতে যাওয়া চিকিৎসা করানো পড়াশোনা করা কিংবা কাজের উদ্দেশ্যে জাওয়ার প্রয়োজন মনে করে। 

বাংলাদশে

পৃথিবীতে যতগুলো দেশ রয়েছে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার জন্য অবশ্যই পাসপোর্ট প্রয়োজন। কেনন পাসপোর্ট বিদেশে জাওয়ার জন্য অত্যান্ত গুরুত্বপূর্ন একটি বৈধ্য প্রমানপত্র। তাহলে এই আর্টিকেলটিতে জেনে নিন বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ বিস্তারিত নানা তথ্য। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বাংলাদেশের নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র 

আপনি কি বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের নির্দিষ্ট কোন দেশে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা মনে করছেন। বাংলাদেশ থেকে আপনি যেকোন দেশে যেতে চাইলে অবশ্যই আপনার একটি পাসপোর্ট প্রয়োজন। কেননা বৈধভাবে পাসপোর্ট ছাড়া বাংলাদেশ থেকে অন্য কোন দেশে যাওয়ার উপায় নেই। অনেকেই বাংলাদেশ থেকে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জানার অনুসন্ধান করেন। আমাদের বাংলাদেশের এমন অনেক মানুষ রয়েছে যারা বিদেশে ওয়ার্ক পারমিট ভিসা নিয়ে জীবিকার উদ্দেশ্যে পাড়ি জমায়। 

এছাড়াও অনেকে লেখাপড়া করার জন্য কিংবা বিদেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ সহ উচ্চ চিকিৎসা পাওয়ার জন্য যেয়ে থাকে। আপনি যেকোনো কারণেই বাংলাদেশ থেকে অন্য যেকোন দেশে যান না কেন পাসপোর্ট অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনে। কেননা অন্য দেশে ঢোকার জন্য পাসপোর্ট হলো বৈধ  প্রমাণপত্র। বাংলাদেশ থেকে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় বেশ কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজন। কেননা আপনি যদি দেশের নাগরিক না হয়ে থাকেন এবং নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র আপনার কাছে না থাকে সেক্ষেত্রে পাসপোর্ট করা অসম্ভব। নিচে দেখে নিন বাংলাদেশের নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে।

  • বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্রের মূল কপি সহ ফটোকপি প্রয়োজন। 
  • পিতা মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি প্রযোজ্য। যদি কারো পিতা কিংবা মাতা মারা যান সে ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদপত্র প্রয়োজন হবে। 
  • পাসপোর্ট সাইজের কয়েক কপি সদ্য তোলা ল্যাব প্রিন্ট ছবি প্রয়োজন হতে পারে তবে বর্তমানে বায়োমেট্রিক এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেওয়ার সময় পাসপোর্ট অফিস থেকেই ছবি তুলে নেয়া হয়। 
  • আপনি যে ইউনিয়ন বা সিটি কর্পোরেশনে বসবাস করেন সেখানকার সনদপত্রের মূলকপি। এছারাও গ্যাস পানি ও বিদ্যুৎ বিলের কপি অর্থাৎ ইউটিলিটি বিলের কপি প্রয়োজন।
  • আপনি যদি বিবাহিত হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে স্বামী/ স্ত্রীর জাতীয় পরিচয় পত্র এবং কাবিননামার কপি প্রয়োজন হতে পারে।  কোন কোন ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র প্রয়োজন হতে পারে।  
  • যদি কোন ব্যক্তি সরকারি চাকরিজীবী হয় সেক্ষেত্রে বাড়তি কিছু কাগজপত্রের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে যেমন NOC এবং GO সনদপত্র। 
  • এছাড়াও আপনার বয়স যদি ১৮ বছর এর নিচে হয় এবং আপনার জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকে সেক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন এর ইংরেজি কপি প্রয়োজন হবে। তবে এজন্য অবশ্যই পিতামাতার জাতীয় পরিচয় পত্র থাকাটা আবশ্যক। 
  • যে সকল ব্যক্তিদের বয়স ২০ বছরের নিচে এবং জাতীয় পরিচয় পত্র নেই তারাও ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন দিয়ে বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করতে পারবে তবে ২০ বছরের উপরে বয়স হলে অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র লাগবে। 

উপরে উল্লেখিত এ সকল কাগজপত্র হলেই বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো নেওয়া সম্ভব। তবে পাসপোর্ট করার ক্ষেত্রে সব সময় খেয়াল রাখবেন সকল তথ্য সঠিক হওয়া জরুরী। কেননা বাংলাদেশ থেকে অন্য কোন দেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট একটি বৈধ প্রমাণপত্র যার জন্য প্রয়োজনীয় সকল তথ্যের সত্যতা গুরুত্বপূর্ন। 

বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া 

আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশর নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেকের মনে একটি ধারণা থাকে পাসপোর্ট করার জন্য দালাল ধরতে হয়। তবে আপনার জেনে নেওয়া প্রয়োজন বর্তমান সময়ে দালাল ছাড়াই পাসপোর্ট করা সম্ভব তাও আবার ঝামেলা ছাড়া। উপরে উল্লেখিত সফল কাগজপত্র সহ অনলাইনে আবেদন করে পাসপোর্ট এর নির্ধারিত মেয়াদ অনুযায়ী ফি পরিশোধ করে সেই ফি পরিশোধের রশিদ নিয়ে নিকটস্থ পাসপোর্ট অফস থেকে সহজে এবং দ্রুত পাসপোর্ট করা সম্ভব। 

বাংলাদেশের নতুন পাসপোর্ট করার জন্য অনলাইনে আবেদন করা সহ ফি পরিষদের বেশ কিছু প্রক্রিয়া রয়েছে। এজন্য প্রথমত www.epassport.govt.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে এবং ওয়েবসাইটে এটি অ্যাকাউন্ট খুলে নিতে হয়। এবারে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করার পালা। আবেদন ফর্ম পূরণের জন্য নাম, জন্ম তারিখ, পিতা মাতার নাম, জন্মস্থান সহ জাতীয় পরিচয় পত্রের সকল তথ্য সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হয়। কেননা এখানে পরবর্তীতে কোন তথ্য পরিবর্তন যোগ্য নয়। 

আবেদন ফর্মের নির্দিষ্ট সকল তথ্য পূরণের পর আপনি কত বছর মেয়েদের এবং কত পৃষ্ঠার পাসপোর্ট নিতে চান এটি নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। সাধারণত বাংলাদেশে পাঁচ বছর কিংবা ১০ বছর মেয়েদের পাসপোর্ট করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে এবং ৬৫ বছরের বেশি তাদের পাঁচ বছর মেয়েদের পাসপোর্ট করার সুযোগ থাকে। বাংলাদেশে অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদনের সকল প্রক্রিয়া শেষ হলে আবেদন ফ্রি পরিষদের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়। 

সাধারণত অনলাইনে সহজ ব্যাংকিং ব্যবস্থা যেমন বিকাশ, রকেট কিংবা নগদের মাধ্যমে পাসপোর্ট ফি পরিশোধ করা যায়। এছাড়াও নির্দিষ্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে পাসপোর্ট আবেদন ফি পরিষদের সুযোগ রয়েছে। উপরোক্ত বাংলাদেশে অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদন যদি আপনার কাছে জটিল মনে হয় তাহলে এমন অনেক ব্যাক্তি রয়েছে যারা অনলাইনে পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়ার কাজ করে থাকে। এজন্য তাদেরকে উক্ত কাজের বিনিময় কিছু অর্থ প্রদান করতে হয়। তবে খেয়াল রাখবেন পাসপোর্ট অফিসে জমা দেওয়ার জন্য সকল কাগজপত্রের সঙ্গে আবেদন ফরম এবং ফি এর রশিদ প্রযোজ্য।

পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে ২০২৬

২০২৬ সালে যদি আপনি নতুন করে পাসপোর্ট করতে চান তাহলে সরকারি ফি প্রযোজ্য। সাধারণত পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে এ ব্যাপারটা সম্পূর্ণ পাসপোর্ট এর মেয়াদ কত বছর এবং কত পৃষ্ঠার হবে এর উপরে নির্ভর করে। এছাড়াও কত দিনের মধ্যে পাসপোর্ট করতে চান অর্থাৎ কত দ্রুত পেতে চান এর ওপরেও নির্ভর করে টাকার পরিমাণটা কম বেশি হয়ে থাকে। নিচে ছক আকারে তুলে ধরা হলো পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে ২০২৬ এ ব্যাপারে। 

পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া ৫ বছর মেয়াদের ১০ বছর মেয়াদের
৪৮ পৃষ্ঠা সাধারন প্রক্রিরা ৪,০২৫ টাকা ৫,৭৫০ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা দ্রুত প্রক্রিয়া ৬,৩২৫ টাকা ৮,০৫০ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা আতি দ্রুত প্রক্রিয়া ৮,৬২৫ টাকা ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা সাধারন প্রক্রিরা ৬,৩২৫ টাকা ৮,০৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা দ্রুত প্রক্রিয়া ৮,৬২৫ টাকা ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা আতি দ্রুত প্রক্রিয়া ১২,০৭৫ টাকা ১৩,৮০০ টাকা

পাসপোর্ট করতে কত সময় লাগে

আর্টিকেলটিতে উপরের অনুচ্ছেদে দেখানো হয়েছে বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য কত টাকা লাগে এমন তথ্য। আর্টিকেলটির এই পর্বে পাসপোর্ট করতে কত সময় লাগে এ ব্যাপারে কিছু তথ্য ছক আকারে উপস্থাপন করা হবে। সাধারণত পাসপোর্ট করতে সময়ে বিষয়টা সম্পূর্ণ পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার প্রক্রিয়ার উপরে নির্ভর করে। অর্থাৎ আপনি যত দ্রুত পাসপোর্ট পেতে চাবেন তত কম সময় লাগবে।

এখানে পাসপোর্ট কত পৃষ্ঠার এটা নির্ভর করে না শুধু পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর। সাধারণত আপনি কত দিনের মধ্যে পাসপোর্ট পাবেন এই সময়টা নির্ধারণ করা হয় পাসপোর্ট অফিসের সকল কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর যখন আপনার বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া শেষ হবে এরপর থেকে। এখানে পাসপোর্ট পাওয়ার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় আবেদনের পর বায়োমেট্রিক হলেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাসপোর্টটি পেয়ে যাবেন। তাহলে নিচে দেখে নিন পাসপোর্ট করতে মূলত কত সময় লাগে।

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ থেকে সার্বিয়া কত কিলোমিটার - বিমান ভাড়া কত   

ক্রমিক নং পাসপোর্ট পাওয়ার প্রক্রিয়া সময়/দিন
সাধারন প্রক্রিয়া সর্বচ্চ ১৫ থেকে ২১ দিন
দ্রুত প্রক্রিয়া সর্বচ্চ ৭ থেকে ১০ দিন
অতি দ্রুত প্রক্রিয়া সর্বচ্চ ২ থেকে ৪ দিন

পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

নতুন পাসপোর্ট করতে কি কি কাগজপত্র লাগে সহ বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার প্রয়োজনীয় বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক সময় দেখা যায় পাসপোর্ট ধারি অনেকের পাসপোর্ট এর মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। পাসপোর্ট এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এ নিয়ে পড়েন অনেকে আবার টেনশনে। পাসপোর্ট এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য মূলত টেনশনের কিছু নেই। পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহ নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের মাধ্যমে খুব সহজে পাসপোর্ট রিনিউ করে নিতে পারেন। 

রিনিউ

এই আর্টিকেলটির প্রথমে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে অনেক ধারনাই দেওয়া হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য যে সকল কাগজপত্রের প্রয়োজন হয় পাসপোর্ট রিনিউ করার ক্ষেত্রেও প্রক্রিয়া একই। শুধুমাত্র বাংলাদেশে পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য উক্ত কাগজপত্র সহ পুরনো পাসপোর্ট এবং এর ফটোকপি প্রয়োজন হয়। অর্থাৎ পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য আপনার মেয়াদ উত্তীর্ণ পাসপোর্ট থাকতে হবে। 

স্বাভাবিকভাবে পাসপোর্ট রিনিউ করতে ব্যক্তির জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি এবং মূল কপি, পিতা মাতার জাতীয় পরিচয় পত্রের কপি প্রযোজ্য। এছাড়াও নাগরিক সনদপত্র, ইউটিলিটি বিলের প্রমাণপত্র, বিবাহিত হলে বিবাহের কাবিননামা প্রয়োজন হতে পারে। সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে NOC/GO সনদপত্র প্রয়োজন। অপ্রাপ্ত বয়সী কোন ব্যক্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল জন্ম সনদের ইংলিশ কপি প্রয়োজন।

অন্যদিকে পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য পাসপোর্ট রিনিউ ফি পরিষদের প্রমাণ পত্র সহ পাসপোর্ট রিনিউ আবেদনের অনলাইন কপি প্রয়োজন।  তবে সবচেয়ে বড় কথা পাসপোর্ট রিনিউ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই পুরনো পাসপোর্ট এবং ডেটা পেজের কপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজন। মূলত নতুন পাসপোর্ট করা এবং পাসপোর্ট রিনিউ করার প্রসেস সম্পূর্ণ একই এখানে ঝামেলা বা টেনশনের কিছু নেই। 

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করণীয় কি

আপনি কি জানতে চান পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করণীয় কি এ ব্যাপারে। আপনি হয়তো জেনে থাকবেন পাসপোর্ট এর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে। যে সকল ব্যক্তিরা দেশের বাইরে কাজের উদ্দেশ্যে, পড়াশোনার জন্য, চিকিৎসা ও ভ্রমণের জন্য যেয়ে থাকে তাদের জন্য পাসপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেননা পাসপোর্ট ছাড়া বৈধভাবে সাধারণত এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাওয়ার কোন উপায় নাই। অনেকে এই মহামূল্যবান পাসপোর্টটি বিভিন্নভাবে হারিয়ে ফেলে। অনেক সময় দেখা যায় পাসপোর্ট চুরি হয়ে যায়, ছিনতাই হয়ে যাও সহ হারিয়ে যাওয়ার মত সমস্যার মোকাবেলা করতে হয়। 

পাসপোর্ট এর মত মূল্যবান এই জিনিসটি যেকোনো কারণবশত হারিয়ে গেলে টেনশন হওয়া মূলত স্বাভাবিক ব্যাপার। হ্যাঁ এটা সত্য পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া মূলত বেশ ঝামেলা পূর্ণ সমস্যা। তবে এখানে টেনশনের কিছু নেই সমস্যা থাকলে তার সমাধান অবশ্যই আছে। এমনই পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বেশ কিছু করণীয় রয়েছে যার মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। যদি কোন ব্যক্তির পাসপোর্ট দেশের মধ্য থেকে হারিয়ে যায় তাহলে যে এলাকা থেকে হারাবে সেখানকার থানায় একটি জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করতে হয়। 

আপনার হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টটির যদি কোন প্রকার ফটোকপি থেকে থাকে তাহলে সেই কপি জমা দেওয়া অত্যন্ত উপকারী। একই সঙ্গে যদি কোন দেশের ভিসা সংযুক্ত থাকে সেক্ষেত্রে এ ব্যাপারটা জিডি কপিতে উল্লেখ করতে হয়। দেশে পাসপোর্ট হারালে জিডি করা আবশ্যক কেননা খুব দ্রুত পুলিশ ইমিগ্রেশন উক্ত পাসপোর্টটিকে কালো তালিকাভুক্ত করে ফেলো এতে করে পাসপোর্ট এর কার্যকারিতা থাকে না। এর মানে আপনার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অবশ্যই হারিয়ে যাওয়া এলাকার থানায় গিয়ে প্রথমত জিডি করা জরুরি। 

বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করণীয় 

বিদেশে অর্থাৎ দেশের বাইরে অবস্থানরত যেকোনো দেশে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে টেনশনের আর শেষ থাকে না। কেননা বিদেশে একটি পাসপোর্ট একজন ব্যক্তির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রমাণপত্র। পাসপোর্ট ছাড়া অন্য কোন দেশে থাকার কোন বৈধতা কারো নেই। বিদেশে পাসপোর্ট একজন ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করা সহ আইনি সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে যদি এই পাসপোর্ট বিদেশে বসে হারিয়ে যায় তাহলে করণীয় কি। এ ব্যাপারে জানা সকল বিদেশগামী ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

আর্টিকেলটির উপরের অনুচ্ছেদে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করণীয় কি অর্থাৎ দেশে থেকে পাসপোর্ট হারালে করণীয় এ সম্পর্কে বলা হয়েছে। এবারে আপনার পাসপোর্টটি যদি বিদেশে বসে হারিয়ে যায় তাহলে প্রথমত ভয় পাবেন না। এজন্য আপনার খুঁজে বের করতে হবে সেই দেশে থাকা বাংলাদেশি দূতাবাস। কেননা এ সকল সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের দূতাবাস আপনাকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদান করবে। একই সঙ্গে উক্ত দেশের হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্ট এর এরিয়ার নির্দিষ্ট থানায় জিডি করতে হবে।

পাসপোর্ট এর ফটোকপি অবশ্যই জিডির কপির সঙ্গে জমা দিবেন। আপনার হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্ট এর সঙ্গে সংযুক্ত ভিসার এরাইভাল ভিসা কপি যদি প্রয়োজন হয়। একই সঙ্গে আপনার পাসপোর্ট সাইজের কয়েক কপি ছবি প্রয়োজন হবে। এ সকল কাগজপত্র সহ বাংলাদেশের দূতাবাসে যোগাযোগের ফলে তারা আপনাকে নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার সহ বৈধতার জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা করবে। 

অনেকেই আবার বিদেশ ভ্রমণের জন্য যায় এবং দুর্ঘটনা বসত পাসপোর্ট হারিয়ে ফেলে। যেহেতু বিদেশে থাকার জন্য বৈধ প্রমাণপত্র প্রয়োজন এজন্য আপনি দ্রুত ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর জন্য আবেদন করতে পারেন। এজন্য আপনি যে হোটেলে থাকবেন সেখানকার সি-ফর্ম সংগ্রহ করে সমস্ত প্রসেসিং এর মাধ্যমে মিনিস্টার কাউন্সিলর বরাবর ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর আবেদন করতে হয়। এই আবেদনের মাত্র দুই দিনের মধ্যে আপনাকে ট্রাভেল পারমিট প্রদান করবে যা পাসপোর্ট এর কার্যকারিতা বাহাল রাখে। একই সঙ্গে এই ট্রাভেল পারমিট নিয়ে ট্রাভেল এজেন্সির সহায়তায় সহজে দেশে ফিরে আসতে পারবেন ঝামেলা ছাড়া। 

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে জিডি করার নিয়ম

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করণীয় এবং বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করনীয় সম্পর্কে উপরের অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেকের জানার আগ্রহ থাকে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে জিডি করার নিয়ম সম্পর্কে। সাধারণত পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে জিডি করার জন্য নিকটস্থ থানায় যেতে হয়। উক্ত     থানায় হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্ট এর জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করার সময় আপনার পাসপোর্ট এর নাম্বার উল্লেখ করতে হয় এবং পাসপোর্ট এর ফটোকপি থাকলে তা অবশ্যই জিডি কপির সঙ্গে দিতে হয়। 

যে ব্যক্তির পাসপোর্ট হারিয়ে যাবে সেই ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি যদি পরিচয় পত্র না থাকে তাহলে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন এর ফটোকপি দিতে হয়। একই সঙ্গে পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া স্থানের নাম, কখন পাসপোর্ট হারিয়েছে সেই সময় সহ পাসপোর্ট এর সকল বিবরণ জিডিতে সম্পূর্ণভাবে উল্লেখ করতে হবে। হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্ট এর জিডি অনলাইনেও করা যায়। তবে নির্দিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়াটাই সবচেয়ে উত্তম এবং নিরাপদ। 

আরো পড়ুনঃ বাংলাদেশ থেকে জর্ডান কত কিলোমিটার - জর্ডান জাওয়ার উপায়

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে জিডি করতে কত টাকা লাগে 

আমাদের মধ্যে অনেকেরই একটি ভুল ধারণা থাকে থানায় জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করতে হয়তো অনেক টাকা পয়সা লাগে। তবে এর সঠিক তথ্য হলো থানায় যেকোন ব্যাপারে জিডি বা সাধারণ ডাইরি করতে কোন প্রকার টাকা-পয়সা লাগেনা। তাহলে বুঝতে পারছেন পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে জিডি করতে কত টাকা লাগে এর উত্তর কি হতে পারে। অবশ্যই কোন প্রকার টাকা পয়সা লাগে না। যদি কোন ব্যক্তি পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার পর জিডি করতে টাকা দাবি করে সেক্ষেত্রে তার থেকে বিরত থাকুন। 

বাংলাদেশে

আপনার পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অবশ্যই নিজে থেকে নির্দিষ্ট থানায় যাবেন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগে নিতে ভুলবেন না। এখানে শুধুমাত্র যে ব্যক্তিকে দিয়ে আপনি জিডি বা সাধারণ ডায়েরি লেখাবেন কেবলমাত্র তাকেই সামান্য পরিমাণ কিছু অর্থ প্রদান করতে হয়। তার থেকে জিডি পত্র নিয়ে আপনি থানায় জমা দিবেন। আপনার জিডি পত্রের সকল প্রকার ব্যবস্থা থানা কর্তৃক সম্পন্ন ফ্রিতে নেওয়া হবে। আশা করি আপনি ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন। 

উপসংহার। বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র 

আর্টিকেলটিতে বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া, পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে ২০২৬, পাসপোর্ট করতে কতদিন সময় লাগে এবং পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করণীয় কি, বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে করণীয়, পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে জিডি করার নিয়ম এবং সবশেষে পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে জিডি করতে কত টাকা লাগে এ ব্যাপারেও উপস্থাপন করা হয়েছে। 

পাসপোর্ট ধারি যেকোনো ব্যক্তির কাছে পাসপোর্ট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য অবশ্যই সতর্কতা অবলম্বন করা সকলেরই উচিত। আপনার যদি পাসপোর্ট থাকে তাহলে অবশ্যই পাসপোর্ট এর কয়েক কপি রঙিন ফটোকপি করে রাখবেন। চাইলে পাসপোর্ট এর কপি সহ সম্পন্ন পেজ মোবাইলে ছবি তুলে কিংবা স্ক্যান করে গুগল ড্রাইভে রেখে দিতে পারেন। আপনার পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়া সহ যে কোন দুর্ঘটনায় এটি অত্যন্ত উপকারী প্রভাব ফেলতে পারে। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url