বিড়াল আঁচড় দিলে করনীয় কি - কি কি ক্ষতি হতে পারে

আপনি কি বিড়াল পালছেন তাহলে আপনার জেনে নেওয়া উচিত বিড়াল আঁচড় দিলে করণীয় কি বিড়াল আঁচড় দেওয়ার ফলে যে সকল ক্ষতি হতে পারে এমন বিস্তাতিত নানান তথ্য সম্পর্কে। শখের বসে আমাদের মধ্যে অনেকই বিড়াল পালে আদর করে কেউ আবার সঙ্গে নিয়ে ঘুমায়। 

বিড়াল

স্বাভাবিকভাবে বিড়াল শান্ত স্বভাবের এক ধরনের ছোট মাংসাশী স্তন্যপায়ী প্রাণী। শান্ত স্বভাবের প্রাণী হলেও অনেক সময় হুট করে আচর বসিয়ে দিতে পারি যে কারো শরীরে। তবে ভয়ের কিছু এই ব্লগে বিড়াল আঁচড় দিলে করনীয় কি সহ প্রয়োজনীয় বেশ কিছু তথ্য ধাপে ধাপে জেনে নিন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ বিড়াল আঁচড় দিলে করনীয় কি - কি কি ক্ষতি হতে পারে 

বিড়াল আঁচড় দিলে করনীয় কি 

বিড়াল হলো মিশুক স্বভাবে প্রাণী যা মানুষের সঙ্গে খুব সহজেই মিশে যেতে পারে। কেউ যদি অপরিচিত কোন বিড়ালকে আদর করে দেয় তাহলে সহজে মিশে যেতে পারে সেই মানুষটির সঙ্গে। সাধারণত যেকোনো বাড়ির আঙিনা সহ আশেপাশে খেয়াল করলেই বিড়ালের দেখা মেলে। অনেকেই বিড়াল দেখলেই খুব স্বচ্ছন্দের সঙ্গে আদর করতে চাই। অনেক সময় আবার অনেকে বিড়ালের আঁচড় খেয়ে পড়ে যায় নানান টেনসনে। কেননা অনেকে ভাবে বিড়াল আঁচড় দিলে হয়তো জলাতঙ্ক হয়ে যেতে পারে। হ্যাঁ বিড়াল আঁচড় দিলে সতর্কতা খুবই জরুরী। বিড়াল আঁচড় দিলে করণীয় কি সে সম্পর্কে নিচে প্রয়োজনীয় তথ্য দেখে নিন।

যদি আপনাকে বিড়াল আঁচড় দেয় তাহলে প্রাথমিক অবস্থায় উত্তেজিত না হয় আঁচড়ের গভীরতা পরিমাপ করুন। গভীরতা যেমনই হোক না কেন যদি ক্ষতস্থান থেকে রক্তপাত হয় কিংবা না হয় যত দ্রুত সম্ভব সবান পানি দিয়ে ক্ষতস্থান ধুয়ে ফেলতে হবে।   সর্বনিম্ন দশ মিনিট ধরে ধোয়া জরুরী তবে এর থেকেও বেশী সময় ধরে ধোয়া উচিত। আপনি চাইলে যে কোন সাবান ব্যবহার করতে পারেন। কেননা বিড়াল আঁচড় দিলে যে সকল ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি দেখা দিতে পারে সাবান এই ব্যাকটেরিয়া গুলোকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে। এজন্য বিড়াল আঁচড় দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে ভালোভাবে সাবান পানি দিয়ে ক্ষতস্থান পরিষ্কার করা জরুরী। 

যদি আপনার হাতের কাছে সাবানের ব্যবস্থা না থাকে তাহলে দ্রুত পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলতে পারেন। তবে ক্ষতস্থান সাবান পানি হোক কিংবা পানি দিয়ে অবশ্যই ভালোভাবে ক্ষতস্থানের চারপাশ পরিষ্কার করা জরুরী। এক কথায় বলা যেতে পারে বিড়াল আঁচড় দিলে প্রাথমিক চিকিৎসা বা করণীয় হিসেবে ক্ষতস্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করা হলে বড় ধরনের কোন স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুকি অনেকটাই কমে যায়। একই সঙ্গে আপনার হাতের কাছে কোন প্রকার এন্টিবায়োটিক ক্রিম থাকলে ক্ষতস্থানে লাগাতে ভুলবেন না।

অনেক সময় দেখা যায় অনেকের ক্ষেত্রে বিড়ালে আঁচড় দেওয়া ক্ষতস্থানটি অনেক বেশি গভীর হয়। যার ফলে রক্তপাত বন্ধ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনা। বিড়াল আঁচড় দেওয়ার ফলে যদি কারো রক্তপাত বন্ধ না হয় সেক্ষেত্রে রক্তপাত বন্ধ করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া প্রাথমিক করণীয়র মধ্যে পড়ে। এর মানে রক্তপাত বন্ধ না হলে ক্ষতস্থান চেপে ধরে রাখতে পারেন অন্যথায় ব্যান্ডেজ ব্যবহার করাও যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখবেন রক্তপাত বন্ধ হয়ে গেলে ক্ষতস্থানটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া উচিত। 

স্বাভাবিক অবস্থায় কোন রোগাক্রান্ত বিড়াল যদি বিড়াল আঁচর না দেয় সেক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে উপরোক্ত করণীয় অনুসরণে সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়া সম্বাবনা রয়েছে। তবে আমাদের কারোই বিড়াল আঁচড় দেওয়ার ক্ষেত্রে অসতর্ক হওয়া উচিত নয়। প্রাথমিকভাবে উপরোক্ত করণীয় অনুসরণের পর যত দ্রুত সম্ভব একজন চিকিৎসকের পরামর্স নেওয়া জরুরি । কেননা এ সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যথাসাধ্য ব্যবস্থা নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। বিষেশত বিড়ালের আঁচড় সাধারণভাবে বিবেচনা করার কোন উপায় নেই এজন্য সঠিক পদক্ষেপ এবং ব্যবস্থা জরুরী। 

বিড়াল আঁচড় দিলে কি কি ক্ষতি হতে পারে 

বিড়াল আঁচড় দিলে দিলে করনীয় কি অর্থাৎ প্রাথমিকভাবে সতর্কতা অনুযায়ী যে সকল পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সে ব্যাপারে উপরে কিছু ধারনা দেওয়া হয়েছে। অনেক সময় অনেকে বিড়াল আঁচড় দিলে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় না। যদি কোন ব্যক্তিকে বিড়াল আঁচড় দেয় এবং এ ব্যাপারে সে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করে সেক্ষেত্রে দেখা দিতে পারে নানা সমস্যা। আমরা সকলেই জানি বিড়ালের চারটি পায়ে সূচালো নখ থাকে যেগুলো থেকে আঁচড় বসালে বোর্টেনেল্লা হেলসেলে ব্যাকটেরিয়ার প্রভাব শরীরে দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

কেননা বিড়ালের শরীরে বোর্টোনেল্লা হেলসেলে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। এছাড়া বিড়াল আঁচর দিলে অসতর্কতায় দেখা দিতে পারে নানান সমস্যা এগুলোর মধ্যে শারীরিক দুর্বলতা সহ শরীরে অত্যাধিক জ্বর এবং মাত্রাতিরিক্ত মাথা ব্যথার প্রবণতা আসতে পারে। একই সঙ্গে ক্ষতস্থানটি স্বাভাবিকের তুলনায় ফুলে যেতে পারে এবং ক্ষতস্থানের প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হতে পারে। এছাড়াও দেখা দিতে পারে ক্ষতস্থানে পুজ বা ঘা হওয়ার সম্ভাবনা। যদি কোন ব্যক্তিকে বিড়াল আঁচড়ের ফলে ব্যাকটেরিয়া শরীরে ঢুকে পড়ে তাহলে অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও দেখা দিতে পারে। সবশেষে যদি কোন ক্রমে জলাতঙ্ক হয়ে যায় তাহলে শতভাগ মৃত্যু হওয়ার সম্বাবনা রয়েছে। 

কোন ধরনের বিড়াল আচর দিলে ক্ষতি হয় 

কোন ধরনের বিড়াল আঁচড় দিলে ক্ষতি হয় এ ব্যাপারে ধারণা রাখাও যথাযথ। স্বাভাবিকভাবে বিড়াল আঁচড় দেওয়ার পরে ক্ষতির সম্ভাবনা মূলত ক্ষতস্থানের গভীরতা উপর নির্ভর করে। সাধারণত যে সকল ক্ষতস্থানে রক্তপাতের মত প্রবণতা দেখা দেয় না সেক্ষেত্রে অনেকটাই ঝুঁকিমুক্ত থাকা যায়। তবে যে সকল বিড়ালের আঁচড়ে গভীরতা অনেক বেশি হয় এবং রক্তপাত হয় সেক্ষেত্রে ক্ষতির সম্ভাবনা অনেক বেশি। মূলত যে সকল বিড়াল র‍্যাবিশ ভাইরাসে আক্রান্ত থাকে এদের আঁচড়ে বড় ধরনের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

সাধারণত যে ধরনের বিড়ালের আচরণগত পরিবর্তন ঘটে, ঘনঘন শ্বাস প্রশ্বাস নেয় এবং মুখ দিয়ে লালা ঝরতে থাকে এগুলো মূলত র‍্যাবিশে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ। কোন বিড়াল র‍্যাবিশে আক্রান্ত হলে খুব বেশিদিন বেঁচে থাকেনা। আপনাকে যদি বিড়ালে আঁচড় দেয় এবং সেই বিড়ালের উপরোক্ত লক্ষণ গুলি থেকে থাকে তাহলে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে যে কোন বিড়াল আঁচড় দিলে প্রাথমিক করনীয়র পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ।

বিড়াল আঁচড় দিলে কি জলাতঙ্ক হয় 

বিড়াল আঁচড় দিলে কি জলাতঙ্ক হয় এ ব্যাপারে আশঙ্কা থাকে অনেকের মধ্যে। উপরে ইতিপূর্বে কোন ধরনের বিড়াল আঁচর দিলে ক্ষতি হয় এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। আমাদের মধ্যে অনেকেরই ধারণা থাকে কুকুরে কামড়ালে হয়তো জলাতঙ্ক রোগের সম্ভাবনা দেখা দেয়। তবে সকলেরই জানা উচিত শুধু কুকুর নয় বিড়ালের কামড় কিংবা আঁচরেও জলাতঙ্কের প্রবণতা দেখা দিতে পারে। সাধারণত যে সকল বিড়াল র‍্যাবিশ ভাইরাসের আক্রান্ত থাকে এগুলোতে কামড় বা আঁচড় দিলে জলাতঙ্ক হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। 

তবে ভয়ের কিছু নেই র‍্যাবিশে আক্রান্ত বিড়াল হোক কিংবা যে কোন বিড়াল আচর কিংবা কামড় দিলে প্রাথমিক করনীয় অনুযায়ী ক্ষতস্থান ভালোভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম কিংবা স্যাভলন, ডেটল দিয়ে ক্ষতস্থানটি ব্যাকটেরিয়া মুক্ত করা উচিত। একই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক এবং যথাযথ ব্যবস্থা ফলে জলাতঙ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সম্পূর্ণরূপে নিরাময় করা সম্ভব। চিকিৎসক যদি মনে করে জলাতঙ্ক প্রতিরোধের টিকা দিতে হবে তাহলে জলাতঙ্কের টিকা নেওয়া জরুরী। 

আরো পড়ুনঃ তৈলাক্ত ত্বক ফর্সা করার ঘরোয়া উপায় জানুন বিস্তারিত তিথ্য সহ

বিড়ালের আঁচড়ে জলাতঙ্কের ভয়াবহতা 

বিড়াল আঁচড় দিলে করণীয় কি এমন তথ্য ব্লগের শুরুতে তুলে ধরা হয়েছে। বিড়াল কিংবা কুকুর আঁচড় দিলে জলাতঙ্ক হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে এ ব্যাপারে হয়তো আমরা অনেকেই শুনি তবে বাস্তবতা সম্পর্কে আমাদের কতটুকুই বা ধারণা রয়েছে। আমাদের সকলেরই জানা উচিত বিড়ালের আঁচড় কিংবা কামড়ে যদি কারো শরিরে র‍্যাবিশ ব্যাকটেরিয়া রক্তে প্রবাহিত হয় এবং জলাতঙ্ক হয়ে যায় সেনক্ষেত্রে শতভাগ মৃত্যু ঝুকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ জলাতঙ্কে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির মৃত্যু শতভাগ নিশ্চিত।

বিড়ালের

মরণব্যাধি এই জলাতঙ্কে আক্রান্ত হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণ গুলোর মধ্যে শরীরে প্রচন্ড খিচুনি দেখা দেওয়া, পানির প্রতি অতিরিক্ত ভয় অনুভুতি, জ্বর এবং মাথা ব্যথা সহ বেশ কিছু লক্ষণ প্রকাশ পায়। যদি কোন ব্যক্তিকে বিড়াল আঁচল বা কামড় বসিয়ে দেয় তাহলে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। কেননা শুধু কুকুরের কামড়ে নয় বিড়ালের আচর কিংবা কামড়ে জলাতঙ্ক বা হাইড্রোফোরিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। প্রাথমিক অবস্থায় সঠিক ব্যবস্থা সহ টিকা ছাড়া যা সাধারণত চিকিৎসার মাধ্যমেও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না।

ঘরের পালা বিড়ালে আঁচড় দিলে কি ঝুকি রয়েছে 

অনেকেই শখে বসে বিড়াল পালে শুধু পালেই না সারাদিন আদর করা সহ রাতে দেখা যায় বিড়াল বিছানায় যেয়ে ঘুমায়। পূর্বেই বলা হয়েছিল বিড়াল স্বভাবত খুবই মিশুক স্বভাবের প্রাণী। যারা বিড়াল পালে এদের মধ্যে অনেকেরই জানার আগ্রহ থাকে ঘরের পালা বিড়ালে আচর দিলে কি ঝুঁকি রয়েছে। মূলত ঘরের পালা বিড়াল হোক কিংবা রাস্তার বিড়াল আঁচড় দিলে সতর্কতা অত্যন্ত জরুরি এখানে ঝুঁকির প্রশ্ন অবশ্যই থাকবে। সাধারণত বিড়াল সারাদিনে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ায় এবং বিভিন্ন কিছু খায় সঙ্গে ছোট অনেক প্রাণী স্বীকার করে।

যার ফলে এদের নখে এবং মুখে ব্যাকটেরিয়া লেগে থাকে। কাউকে আঁচড় দেওয়া বিড়ালটি যদি নিজস্ব কোন পালা বিড়াল হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই সতর্ক থাকবেন। কেননা র‍্যাবিস ভাইরাস কিংবা ব্যাকটেরিয়া ছাড়াও বিড়ালের পশমে থাকা ব্যাকটেরিয়া থেকেও ছড়াতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুকি। তবে পালা বিড়ালের ক্ষেত্রে র‍্যাবিশ টিকা দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা সহ নখগুলো কেটে দিতে পারেন। কেননা আপনার বিড়াল হয়তো আপনাকে আচর দেবে না তবে বিভিন্নভাবে আচর লেগে যেতে পারে। 

বিড়াল গর্ভাবস্থায় আঁচড় দিলে কি হয় 

বিড়াল আঁচড় দিলে প্রাথমিক করনীয় সহ বিড়াল আঁচড় দেওয়া সংক্রান্ত তথ্য সম্পর্কে ইতিপূর্বে আলোচনা করা হয়েছে। অনেকের মধ্যে বিড়াল গর্ভাবস্থায় আঁচড় দিলে কি হয় এমন তথ্য জানার আগ্রহ থাকে। সাধারণত গর্ভাবস্থায় থাকা কোন বিড়ালকে আদর করা কিংবা উত্তেজিত করা থেকে আমাদের সকলেরই বিরত থাকা উচিত। কেননা এই সময় বিড়াল কিছুটা খিটখিটে মেজাজের থাকে। যদি কোন ব্যক্তিকে গর্ভাবস্থায় থাকা কোন বিরল আঁচড় দেয়। 

সেক্ষেত্রে প্রাথমিক করণীয় অনুসরণের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই ব্লগের শুরুতে বিড়াল আঁচড় দিলে করনীয় কি সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। বিড়াল গর্ভাবস্থায় থাকুক কিংবা স্বাভাবিক থাকুক যে কোন পরিস্থিতিতে বিড়ালের আচরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নেওয়া হলেই বড় ধরনের ঝুকির সৃষ্টি হতে পারে। এজন্য আপনাকে যদি গর্ভাঅবস্থায় কোন বিড়াল আঁচড় দেয় তাহলে নির্ধারিত পদক্ষেপ অনুসরণ করুন।

বিড়াল আঁচড় দিলে কি ভ্যাকসিন দিতে হয় 

বিড়াল আঁচড় দিলে কি ভ্যাকসিন নিতে হয় এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা অনেকেই বিড়ালের আঁচড় নিয়ে অবহেলা করি প্রাথমিক করণীয় মেনে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করি না। আসলে বিড়াল আঁচড় দিলে অবহেলার কোন জায়গা নেই। তবে বিড়ালটি যদি আপনার পোষা এবং পূর্ব থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া থাকে সেক্ষেত্রে আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন। এছাড়া যদি অপরিচিত কোন বিড়াল কিংবা ভ্যাকসিন দেওয়া নয় এমন বিড়াল আঁচর দিলে ভ্যাকসিন নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। 

সাধারনত বিড়ালের আঁচড় হোক কিংবা কুকুরের আঁচড়ে র‍্যাবিশ বা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে হয়। গুরুত্বের সঙ্গে বিড়াল আচর দিলে অবশ্যই প্রাথমিক করণীয় মেনে এর পাশাপাশি নিকটস্থ হাসপাতালে গিয়ে টিটোনাস বা ধনুষ্টংকার ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত। বিড়ালের আচরে কোন প্রকার অবহেলা করবেন না। কেননা মাথায় রাখবেন কোনভাবে যদি বিড়ালের আচর থেকে জলাতঙ্ক হয়ে যায়। তাহলে এর কোন চিকিৎসা নেই শতভাগ মৃত্যু ঝুকিতে ফেলে দিতে পারে।

আরো পড়ুনঃ রক্তে ইনফেকশন হলে কি খাবার খাওয়া উচিত জানুন এখানে।

বিড়াল আঁচড় দিলে কত দিনের মধ্যে টিকা দিতে হয় এবং কয়টি 

বিড়াল আঁচড় দিলে র‍্যাবিশ বা জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন নিতে হয় এ ব্যাপারে তো ইতিমধ্যে জেনেছেন। এই পর্বে বিড়াল আঁচড় দিলে কত দিনের মধ্যে টিকা দিতে হয় এবং কয়টি ডোজ সম্পন্ন করতে হয় এ ব্যাপারে উল্লেখ করা হবে। সাধারণত বিড়াল আচর দেওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে টিকা নিতে হয়। তবে জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিশের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দিতে হবে। র‍্যাবিশ বা জলাতঙ্কের মোট পাঁচটি ডোজ নেওয়া প্রযোজ্য। 

বিড়ালের

এর মধ্যে প্রথম ডোজ ২৪ ঘন্টার মধ্যে এবং ২য় ডোজ তৃতীয দিনে এবং তৃতীয় ডোজ সপ্তম দিনে চতুর্থ ডোজ ১৪ দিনের মাথায় এবং পঞ্চম ডোজ দিতে হয় ২৮ দিনের মাথায়। বিড়ালের আঁচড়ে প্রাথমিক করণীয়র পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ মত সম্পূর্ণ ডোজ নিয়ম অনুযায়ী নিতে হবে এ ব্যাপারে কোন প্রকার অবহেলা করবেন না। কেননা জলাতঙ্ক খুবই মারাত্মক রোগ যা মানুষকে মৃত্যুর দুয়ারে নিয়ে যেতে পারে এজন্য সতর্কতা অত্যন্ত জরুরী এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। 

উপসংহার। বিড়াল আঁচড় দিলে করনীয় কি - কি কি ক্ষতি হতে পারে 

আজকের এই ব্লগে বিড়াল আঁচড় দিলে করনীয় কি, বিড়াল আঁচড় দিলে কি কি ক্ষতি হতে পারে, কোন ধরনের বিড়াল আঁচড় দিলে ক্ষতি হয়, বিড়াল আচর দিলে কি জলাতঙ্ক হয় এমন তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও বিড়ালের আঁচড়ে জলাতঙ্কের ভয়াবহতা, ঘরের পালা বিড়ালে আঁচড় দিলে কি ঝুঁকি রয়েছে, বিড়াল গর্ভাবস্থায় আচর দিলে কি হয়,বিড়াল আঁচড় দিলে কি ভ্যাকসিন দিতে হয়, বিড়াল আঁচড় দিলে কত দিনের মধ্যে টিকা দিতে হয় এবং কয়টি ডোজ দেওয়া প্রযোজ্য ইত্যাদি তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। 

শখে্র বসে আমরা যেকেউ বিড়াল পালতে পারি তবে অবশ্যই বিড়ালটিকে র‍্যাবিশ ভ্যাকসিন দেওয়া উচিত। কেননা র‍্যাবিশ ভ্যাকসিন দেওয়া বিড়াল কিংবা কুকুর আঁচর বা কামড় বসিয়ে দিলে সাধারণত তেমন কোনো ক্ষতি হয় না। তবে কোন অপরিচিত কিংবা ভ্যাকসিন না দেওয়া বিড়াল আচর কিংবা কামড় দেয় সেক্ষেত্রে সতর্কতার ব্যাপারটা অবশ্যই মাথায় রাখবেন। কেননা বিড়াল কিংবা কুকুরের আচর বা কামড়ে সতর্কতাই একমাত্র মারাত্মক ঝুকির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url