এন্টার্কটিকা মহাদেশে কয়টি দেশ আছে ও কি কি বিস্তারিত তথ্য
এন্টারটিকা মহাদেশে কয়টি দেশ আছে ও কি কি সহ এন্টার্কটিকা মহাদেশ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য এই আর্টিকেলটিকে আলোচনা করা হবে। আপনি হয়তো জেনেই থাকবেন পৃথিবীর মোট স্থলভাগকে সাতটি মহাদেশের বিভক্ত করা হয়েছে।
এই মহাদেশ গুলোর মধ্যে আন্টার্কটিকা মহাদেশ সম্পর্কিত তথ্য এখনো অনেকের কাছে অজানা। চলুন তাহলে আর্টিকেলটিতে এন্টার্কটকা মহাদেশে কয়টি দেশ রয়েছে ও কি কি সহ বিস্তারিত নানা তথ্য সম্পর্কে দেখে নিন।
পোস্ট সূচিপত্রঃ এন্টার্কটিকা মহাদেশে কয়টি দেশ আছে ও কি কি বিস্তারিত তথ্য
- এন্টার্কটিকা মহাদেশে কয়টি দেশ আছে ও কি কি
- এন্টার্কটিকা মহাদেশ কোথায় অবস্থিত
- এন্টার্কটিকা মহাদেশের জনসংখ্যা কত
- এন্টার্কটিকা মহাদেশের সক্রিয় আগ্নেয়গিরির নাম কি
- এন্টার্কটিকা মহাদেশে মোট কতটি আগ্নেয়গিরি রয়েছে
- এন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কি
- এন্টার্কটিকা মহাদেশে কি মানুষ বসবাস করে
- এন্টার্কটিকা মহাদেশের প্রধান সম্পদ কি
- এন্টার্কটিকা মহাদেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি
- উপসংহার। এন্টার্কটিকা মহাদেশে কয়টি দেশ আছে ও কি কি বিস্তারিত তথ্য
এন্টার্কটিকা মহাদেশে কয়টি দেশ আছে এবং কি কি
পৃথিবীর মোট চার ভাগের তিন ভাগ পানি এবং এক ভাগ স্থল রয়েছে। পৃথিবীর মোট স্থলভাগের সম্পূর্ণ জায়গাটুকু সাতটি মহাদেশের বিভক্ত করা হয় যার মধ্যে এন্টার্কটিকা নামে একটি মহাদেশ বিদ্যমান। আন্টার্কর্টিকা পৃথিবীর অন্যান্য মহাদেশের মধ্যে আয়তনের দিক থেকে পঞ্চমতম অবস্থানে রয়েছে। এই মহাদেশের মোট আয়তন ১,৪২,০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার বা ৫৫,০০,০০০ বর্গমাইলের চেয়ে কিছুটা বেশি। পৃথিবীর মোট মহাদেশ গুলোর মধ্যে ইউরোপ মহাদেশের তুলনায় এন্টার্কটিকা প্রায় ৪০% বড় জায়গা জুড়ে বিস্তৃত।
আপনি হয়তো জানলে অবাক হবেন এত বড় মহাদেশে প্রকৃত অর্থে কোন সার্বভৌম এবং স্বাধীন রাষ্ট্র নেই। অর্থাৎ এই মহাদেশে স্থায়ীভাবে কোন দেশ এবং বসবাসের জন্য কোন মানুষ নেই। কেননা এন্টার্কটিকা মহাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং আবহাওয়া সম্পূর্ণরূপে মানুষ বসবাসের অনুপযোগী। শুধু মানুষই নয় এন্টার্কটিকা মহাদেশে সামান্য কয়েক প্রজাতির প্রাণী বাদে অন্যান্য প্রাণীর কোন অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে এন্টার্কটিকা মহাদেশের প্রায় ৯৮% জায়গা জুড়ে বরফের আস্তরনে ঢাকা থাকে।
এই মহাদেশ এতটাই শীতল বরফ যা গলালে পৃথিবীর মোট স্থলভাগের উচ্চতা ২০০ ফুট পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এছাড়াও এখনকার শুষ্ক বায়ু প্রবাহ প্রায় সব সময় থাকে এবং শিতের সময় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় - ৮৯.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত। পৃথিবীর এই শীতলতম মহাদেশ পৃথিবীর মোট ৭০% সাধু পানির ভান্ডার রয়েছে যা হিমায়িত অবস্থায় পাওয়া যায়। মানুষের বসবাসের অনুপযোগী এই মহাদেশে কোন স্থায়ী দেশ না থাকলেও পৃথিবীর অন্যান্য মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশ এখানে নিজেদের মালিকানা দাবি করে। বিশেষ করে এই মহাদেশে প্রায় ৩০ টি দেশ ১৯৫৯ সালের এন্টার্কটিক চুক্তি অনুযায়ী অংশিদারিত্ব দাবি করে।
এন্টার্কটিকা মহাদেশ কোথায় অবস্থিত
আর্টিকেলটিতে ইতিপূর্বে এন্টার্কটিকা মহাদেশে কয়টি দেশ আছে ও কি কি এ ব্যাপারে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। উপরের অনুচ্ছেদ টুকু পরে হয়তো আপনি বুঝতে পেরেছেন এন্টার্কটিকা মহাদেশ সম্পূর্ণ মানুষের বসবাসের অনুপযোগী। এখানে সার্বভৌম ও স্বাধীন কোন দেশ নেই তবে আশপাশের প্রায় ৩০ টি দেশ এই মহাদেশে তাদের মালিকানা দাবি করে। আর্টিকেলটির এই পর্বে জেনে নিন এন্টারটিকা মহাদেশ কোথায় অবস্থিত বা এই মহাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে। সাধারণত আন্টার্কটিকা মহাদেশ পৃথিবীর দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত।
পৃথিবীর মানচিত্রের কুমেরু বৃত্তের দক্ষিনে এই মহাদেশের বেশিরভাগ জায়গা বিস্তৃত রয়েছে। এছাড়াও এই মহাদেশের দক্ষিণাংসে দক্ষিণ মহাসাগর বা বিশ্ব মহাসাগর ধারা আবদ্ধ। মূলত এই মহাসাগরটি প্রশান্ত মহাসাগর, ভারত মহাসাগর এবং অতলন্ত মহাসাগরের দক্ষিণভাগে অবস্থিত। এক কথায় বলতে পারেন পৃথিবীর দক্ষিণতম মহাদেশ এন্টার্কটিকা এবং এর প্রায় বেশি অঞ্চল কুমেরু বৃত্তের দক্ষিণে অবস্থিত এবং পৃথিবীর সবচেয়ে শীতল এবং শুষ্ক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।
এন্টার্কটিকা মহাদেশের জনসংখ্যা কত
আপনি কি এন্টার্কটিকা মহাদেশের জনসংখ্যা কত এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট তথ্য জানতে চান। পূর্বের অনুচ্ছেদ গুলোতে উল্লেখ রয়েছে আন্টার্কটিকা মহাদেশের স্থায়ীভাবে কোন মানুষ বসবাস করে না। তবে এন্টার্কটিক চুক্তি অনুযায়ী স্বাক্ষরিত প্রায় ৩০ টি রাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গবেষণাগার রয়েছে এই মহাদেশে। এ সকল গবেষণাগারে বছরের সকল সময় কমবেশি বিজ্ঞানীরা সহ তাদের সহযোগীরা থেকে থাকে। তবে এই মানুষগুলোর সংখ্যা প্রতিনিয়ত কম বেশি হয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালের দিকে এন্টার্কটিকায় গবেষণাগারে কর্মী সংখ্যা বেশি থাকে।
স্বাভাবিকভাবে গ্রীষ্মকালে এই কর্মী সংখ্যা বেড়ে ৪০০০ থেকে ৫০০০ বা এর চেয়ে কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। এবং শীতকালে অতিরিক্ত শুষ্কতার কারণে এই মানুষের সংখ্যা কমে ১০০০ বা এর চেয়ে কিছুটা বেশি হয়ে থাকে। এন্টার্কটিকা মহাদেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে এ সকল জনসংখ্যার বসবাস রয়েছে। আন্টার্কটিকায় বসবাসরত এ সকল জনসংখ্যার সাধারণত মাছ শিকার, বিভিন্ন বিষয় গবেষণা সহ পর্যটন হিসেবে থাকতে পারে। এন্টার্কটিকায় বেশ কয়েকটি শিশুরও জন্ম হয়েছে এদের মধ্যে প্রথম ছিলেন এমিলিও মার্কোস পালমা।
এন্টার্কটিকা মহাদেশের সক্রিয় আগ্নেয়গিরির নাম কি
এন্টার্কটিকা মহাদেশে কয়টি দেশ আছে ও কি কি এ ব্যাপারে অনুসন্ধান অনেকেই করেন। আর্টিকেলটির উপরে এন্টার্কটিকা মহাদেশ সম্পর্কিত কিছু তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। অনেকেই আবার এন্টার্কটিকা মহাদেশের সক্রিয় আগ্নেয়গিরির নাম কি এ ব্যাপারে জানতে চান। বরফের ঢাকা হিম শীতল এই মহাদেশে বেশ কয়েকটি আগ্নেয়গিরি রয়েছে এগুলোর মধ্যে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির নাম হল মাউন্ট এরেবাস। মাউন্ট এরেবাস হলো পৃথিবীর দক্ষিণ তম সক্রিয় আগ্নেয়গিরি এটি এন্টার্কটিকার রস দিপে অবস্থিত।
এন্টার্কটিকার এই সক্রিয় আগ্নেয়গিরিটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৭৯৪ মিটার বা ১২৪৪৭ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। মাউন্ট এরেবাসের আগ্নেয়গিরের চূড়ায় একটি দীর্ঘস্থায়ী লাভা হ্রদ রয়েছে যা পৃথিবীর পাঁচটি দীর্ঘস্থায়ী লাভার হ্রদের মধ্যে অন্যতম। এই হ্রদের বিশেষত্ব হল এই হ্রদ থেকে নির্গত আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত হয় সোনা। আপনি শুনলে হয়তো অবাক হবেন এই আগ্নেয়গিরি প্রতিবছর প্রায় কয়েক লাখ ডলারের সোনা বাতাসে উড়িয়ে দিচ্ছে। ধারণা করা হয় প্রায় ১.৩ মিলিয়ন বছর আগে থেকে এই আগ্নেয়গিরিটি সক্রিয় অবস্থায় রয়েছে।
আরো পড়ুনঃ আজারবাইজান কোন মহাদেশে অবস্থিত - আজারবাইজান টাকার মান ।
এন্টার্কটিকা মহাদেশে মোট কতটি আগ্নেয়গিরি রয়েছে
আর্টিকেলটিতে ইতিমধ্যে এন্টার্কটিকার সক্রিয় আগ্নেয়গিরি সম্পর্কে বলা হয়েছে। আগ্নেয়গিরি সম্পর্কে হয়তো আপনার কিছুটা ধারণা রয়েছে। আগ্নেয়গিরি বলতে বুঝায় ভুত্বকের এটি সিদ্র বা ফাটল যা থেকে ভূপৃষ্ঠের নিচ থেকে গরম লাভা, আগ্নেয় ছাই এবং গ্যাস নির্গত হয়। বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায় এন্টার্কটিকা মহাদেশে মোট আগ্নেয়গিরির সংখ্যা রয়েছে প্রায় ১৩৮ টি। তবে এ সকল আগ্নেয়গিরির মধ্যে বেশ কিছু আগ্নেয়গিরি এখনো বরফের নিচে চাপা পড়ে আছে যেগুলো সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
এন্টার্কটিকা মহাদেশের এ সকল আগ্নেয়গিরির মধ্যে দুটি দৃশ্যমান সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে এগুলোর মধ্যে একটি হলো মাউন্ট এরেবাস এবং অন্যটি ডিসেপশন দ্বীপ। এছাড়াও এন্টারটিকার মূল ভূখণ্ডের আরো কয়েকটি আগ্নেয়গিরি হয়েছে যেগুলো মাউন্ট মেলবোর্ন, মাউন্ট বার্লিন, মাউন্ট কফম্যান্ট মাউন্ট হ্যাল্পটন এবং মাউন্ট রিটম্যান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে এন্টার্কটিকায় পর্যবেক্ষণ রত বেশ কিছু বিজ্ঞানীদের ভিত্তিতে এগুলোকে সক্রিয় আগ্নেয়গিরি হিসেবে ধারণা করা হয়।
এন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কি
এই আর্টিকেলটির উপরের অনুচ্ছেদ গুলো যদি আপনি পড়ে থাকেন তাহলে বেশ কিছু ধারনা হয়তো পেয়েছেন। এন্টার্কটিকা মহাদেশে স্থায়ীভাবে কোন মানুষ বসবাস না করলেও এখানে বৈচিত্র্যময় অনেক নিদর্শন রয়েছে যা মানুষের কাছে এখনো অজানা। এন্টার্কটিকা মহাদেশে যেমন রয়েছে বেশ কিছু আগ্নেয়গিরি ঠিক তেমন বেশ কিছু পর্বত শৃঙ্গ রয়েছে। অনেকেই এন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম জানার অনুসন্ধান করে। এই মহাদেশের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গের নাম ভিনসন ম্যাসিফ।
এন্টার্কটিকা মহাদেশের এই সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ ভিনসন ম্যাসিফ এর উচ্চতা প্রায় ৪৪৯২ মিটার বা ১৬০৫০ ফুট। এই পর্বত শৃঙ্গটি এন্টার্কটিকার দক্ষিণ মেরু অঞ্চল থেকে প্রায় ১২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। এই পর্বত শৃঙ্গটি ১৯৫৮ সালে এন্টার্কটিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হিসেবে নিশ্চিত করা হয়। এ সময় কিছু মার্কিন নৌবাহিনী তাদের বিমান ধারা ভিনসন ম্যাসিফ এর প্রথম সন্ধান পায়। একই সঙ্গে ১৯৬৬ সালে আমেরিকান আপ্লাইন ক্লাব ও ন্যাশনাল সায়েন্স গ্রুপের কয়েকজন সদস্য মিলে ভিনসন ম্যাসিফ পর্বত শৃঙ্গে আহরণ করেন।
এন্টার্কটিকা মহাদেশে কি মানুষ বসবাস করে
আপনি কি জানতে চান এন্টার্কটিকা মহাদেশে কি মানুষ বসবাস করে এ ব্যাপারে। এই আর্টিকেলটির উপর পড়লে আপনি হয়তো এই প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যাবেন। তবুও এই পর্বে এন্টার্কটিকা মহাদেশে কি মানুষ বসবাস করে এ ব্যাপারে খোলামেলা কিছু ধারনা দেখে নিন। এন্টার্কটিকা মহাদেশে স্থায়ীভাবে কোন মানুষ বসবাস করে না এবং এখানে কোন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র নেই। এন্টার্কটিকা মহাদেশ স্থায়ীভাবে মানুষ বসবাস না করার কারণ হলো এই মহাদেশ সম্পন্নভাবে বরফে ঢাকা। এখানকার আবহাওয়া তীব্র ঠান্ডা এছাড়া এখানে তীব্র শীতল বাতাস বিদ্যমান।
এছাড়াও সম্পূর্ণ ভূমি বড়পে ঢাকা থাকার কারণে এখানে কোন প্রকার খাবার উৎপাদনের জন্য অনুপযোগী। এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ এতটাই ঠান্ডা যেখানে কোন প্রকার গাছপালাও জন্মায় না। তবে ১৯৫৯ সালে এন্টার্কটিক চুক্তি অনুযায়ী প্রায় ৩০ টি দেশ এই মহাদেশে তাদের মালিকানা দাবি করে। একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য কিছু বিজ্ঞানী এবং সহকর্মী এখানে থাকে অস্থায়ীভাবে। সাধারণত তীব্র শীতের মৌসুমে এখানে মানুষের সংখ্যা কিছুটা কম থাকে এবং গ্রীষ্মের সময় তুলনামূলক বেড়ে যায়।
এন্টার্কটিকা মহাদেশের প্রধান সম্পদ কি
বিশ্বের প্রায় সকল মহাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদ বিদ্যমান এন্টার্কটিকা মাহাদেশও বেতিক্রম নয়। এন্টার্কটিকা মহাদেশে স্থায়ীভাবে মানুষ বসবাস না করলেও এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ। এই মহাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে প্রধান সম্পদ হলো কয়লা এবং লোহা। সাধারণত এই মহাদেশের ট্রান্সএন্টার্কটিকা পর্বতমালায় কয়লা এবং পূর্ব এন্টার্কটিকার প্রিন্স চার্লস পর্বতমালায় লোহার মতো প্রাকৃতিক সম্পদের সন্ধান পান গবেষকরা। এছাড়াও এই মহাদেশে রস সাগর এবং অন্যান্য বেশকিছু উপকূলীয় অঞ্চলে তেল ও গ্যাসের সন্ধান মিলেছে।
অন্যদিকে পৃথিবীর সব থেকে বেশি বিশুদ্ধ পানির মজুদ রয়েছে এন্টার্কটিকা মহাদেশে। বিশেষ করে পৃথিবীর মোট বিশুদ্ধ পানির ৭০ শতাংশ মজুর রয়েছে এই মহাদেশে। এছাড়াও এই মহাদেশে এক সময় প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে তিমি এবং সীল শিকার করতেন অনেকে।পরবর্তীতে এন্টার্কটিকা মহাদেশের এই প্রাকৃতিক সম্পদের শিকার অধিকহারে বেড়ে যাওয়ার ফলে দ্রুত তিমি এবং সিল কমে যায় এবং পরবর্তীতে তা সম্পূর্ণরূপে শিকার বন্ধ করা হয়।
আরো পড়ুনঃ পৃথিবীতে কয়টি মহাদেশ ও মহাসাগর আছে বিস্তারিত তথ্য দেখুন এখানে।
এন্টার্কটিকা মহাদেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি
এন্টার্কটিকা মহাদেশ সম্পর্কিত নানা তথ্যই ইতিপূর্বে জানতে পেরেছেন। আর্টিকেলটির উপরের অংশটুকু পরে কি বুঝলেন এন্টার্কটিকা মহাদেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য গুলো তাহলে কি। এই মহাদেশের প্রধান বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো এটা পৃথিবীর সবচেয়ে শীতলতম স্থান যেখানে প্রায় সকল জায়গা জুড়ে বরফে ঢাকা থাকে সারা বছর। স্বাভাবিকভাবে এই মহাদেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাস পর্যন্ত ২৪ ঘন্টাই সূর্যের আলো থাকে।
অন্যদিকে বেশ কিছু প্রাকৃতিক সম্পদেরও সন্ধান মিলেছে এন্টার্কটিকা মহাদেশে। এই মহাদেশের তীব্র ঠান্ডা সহ্যকারী যেমন পেঙ্গুইন, তিমি এবং সিল ইত্যাদির বসবাসের জন্য স্থায়ী আবাসস্থল। পৃথিবীর প্রায় ৭০% বিশুদ্ধ মিঠা পানি বরফ আকারে জমা রয়েছে এখানে। এই মহাদেশ স্থায়ীভাবে মানুষের ব্যবহার উপযোগী নয় কেননা ভূপৃষ্ঠের মোট ৯৮% স্থলভাগ ১.৯ কিলোমিটার পুরো বরফে ঢাকা। এখানে কোন প্রকার ফসল ফলানো সম্ভব নয় এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পূর্ণ মানুষের ব্যবহার উপযোগী নয়।
উপসংহার। এন্টার্কটিকা মহাদেশে কয়টি দেশ আছে ও কি কি বিস্তারিত তথ্য
আর্টিকেলটিতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এন্টার্কটিকা মহাদেশে কয়টি দেশ আছে ও কি কি, এন্টার্কটিকা মহাদেশ কোথায় অবস্থিত, এন্টার্কটিকা মহাদেশের জনসংখ্যা কত, এন্টার্কটিকা মহাদেশের সক্রিয় আগ্নেয়গিরির নাম কি, এন্টার্কটিকা মহাদেশে মোট কতটি আগ্নেয়গিরি রয়েছে এ ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়াও এন্টার্কটিকা মহাদেশের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম কি, এন্টার্কটিকা মহাদেশে কি মানুষ বসবাস করে, আন্টার্কর্টিকা মহাদেশের প্রধান সম্পদ কি এবং এন্টার্কটিকা মহাদেশের প্রধান বৈশিষ্ট্য কি এ ব্যাপারে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
আপনি হয়তো সম্পূর্ণটুকু পরে এন্টার্কটিকা সম্পর্কে বেশ কিছু ধারনা পেয়েছেন। এও জেনেছেন এই মহাদেশে স্থায়ীভাবে কোন মানুষ বসবাস করে না। কেননা এই মহাদেশের প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং শীতল আবহাওয়া ও বরফের চাদরে ঢাকা থাকার কারণে এটি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী। তবে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ তাদের বৈজ্ঞানিক কর্মকাণ্ডের জন্য বেশ কয়েকটি ঘাটি স্থাপন করেছেন। একই সঙ্গে এই সকল দেশের কিছু বিজ্ঞানী এবং তাদের সহকর্মীরা বছরের প্রায় সকল সময় কম-বেশি এখানে থাকেন।



ভদ্রতা বজায় রেখে কমেন্ট করুন! কারন,প্রতিটা কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url